এক নিমিষেই…

গত দুটো দিন নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। অনেকদিন পর ক্লান্তিজনিত ঘুম দিলাম।

ঘটনার শুরু গত বুধবার। সকালে তিনটি ক্লাস আর বিকেলে ক্লাস টেস্ট; এই করেই সারা দিন পার করে দিলাম। রুমে পা পড়তেই মনে পড়ল পরের দিনের কমিউনিকেশন ল্যাবের কথা। কিছুই রেডি হয়নি। মিমোকে ফোন দিলাম। মিমো বলল, তুষার কে সব দেয়া আছে (মানে মিমোর ফোনে তোলা ফিগারসমূহ)। ল্যাবমেট রাফাত কে নিয়ে ছুট দিলাম লালন শাহ্‌ হলে। ওখানে গিয়ে দেখি ফিগারের অবস্থা যাচ্ছেতাই! আবার ছুটলাম ‘এ’ সেকশনের মনোয়ারের কাছে একুশে হলে। গিয়ে শুনি বেচারা মাত্র ফিস্ট খেতে গেছে। কমপক্ষে ২০ মিনিট লেট।

ভাবলাম টি,ভি, রুমে গিয়ে সময় কাটাই। ঐদিকে যেতেই আমার থিসিস পার্টনার তারিক এর সাথে দেখা। ও ওর রুমে যেতে বলল। এন,এস,টু এর নাকি কিছু টিউটোরিয়াল নামিয়েছে। গেলাম সেখানে। এর মাঝে রাফাতকে হারিয়েছি। ও আগেই টি,ভি, রুমে ঢুকে বসে ছিল। আমি আর তুষার তারিকের রুমে এসেছি ওকে না বলে। আর বেচারার ফোনে কোন টাকাও ছিল না। তারিকের রুম থেকে বেরিয়ে টি,ভি রুমে ওকে পেলাম না। দেখলাম বেচারা একা মনোয়ারের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে। একটু পর মনোয়ার হেলেদুলে এসে আমাদের জানাল, সব কিছু রশীদ হলে আছে, তাও তিন তলায়। অর্থ্যাৎ আমি যেখানে থাকি। মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছিল। যাক অবশেষে পাওয়া তো গেল!

সকালে ল্যাব ছিল বলে রাতে স্পেন-পর্তুগাল এর ইউরো সেমি ফাইনাল দেখতে পারি নাই (আসলে রিপোর্ট বাকি ছিল)। ল্যাবের পর তিনটা ক্লাস (একটা হয়নি) একটা পর্যন্ত। সন্ধ্যায় সিস্‌কো ক্লাস ছিল। দুই ঘন্টার ক্লাস মাথাকে জ্যাম করে দিল। রুমে এসে দেখি, অনাদি খিচুরি রেঁধেছে। পেটপূজা করে বিছানায় একটু শুয়েছি মাত্র, একটু পর রুমের মাঝে চেঁচামেচি, জার্মানি(ফেভারিট) হেরে গেছে, বালোতেল্লি(ব্যাড বয়) দুই গোল দিয়েছে। ঘড়িতে দেখি সারে তিনটা বাজে। জার্মানি-ইতালি’র ২য় সেমিফাইনাল টাও মিস করলাম এইমাত্র।

মোবাইলে দেখি পাঁচটা মিসড্‌কল এসেছে মা’র নাম্বার থেকে। সাড়ে নয়টা থেকে সাড়ে দশটা পর্যন্ত। আবার সকাল ছয়টায় ফোন। একেই বলে মা।

তখন থেকে জেগে আছি। আজ থেকে আবার ২ দিনের সি,এস,ই ডিপার্টমেন্ট এর সি,এস,ই ফেস্টিভাল শুরু।

Advertisements

বানাতে দিয়ে এসেছি

আজ হঠাৎ ছোটবেলার একটা কাহিনী মনে পড়ল।

আমাদের গ্রামে প্রায় সবারই একটা না একটা রেডিও ছিল। আর আমাদের গ্রামে তখন রেডিও কে সবাই গান বলত। সবারই বিভিন্ন রকম রেডিও; কোনটা দুই বা তিন ব্যান্ডের আবার কোনটা আবার একদমই নরমাল। পথে-প্রান্তরে হাঁটতে, মাঠে কাজ করতে সবসময় গান(রেডিও) ছিল নিত্যসঙ্গী। আমার কাজ ছিল কড়া রোদে ঘুরে বেড়ানো আর কোথায় রেডিও আছে সেখানে ভীর জমানো কারণ কোন এক অজানা কারণে আমাদের কোন রেডিও ছিল না।

অবশেষে মায়ের কাছে আবদার করলাম, এবার একটা রেডিও চাই। মা বাবুকে (আমি বাবাকে বাবু ডাকি) বললেন। বাবুও এক কথায় রাজি তার একমাত্র ছেলের (তৎকালীন) আবদার পূরণ করতে। পরদিন অফিস থেকে আসার সময় বেশ দাম দিয়ে কভার ওয়ালা একটি রেডিও নিয়ে আসলেন। দেখে আমার মনটাই দমে গেল। অন্যদের গুলো কত সুন্দর চারকোণা, আর আমারটা কিনা কেমন জানি গোল গোল টাইপ আর কভার পড়া। কিছুদিন কভার খোলার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু মায়ের খবরদারিতে সম্ভব হয়নি।

যাই হোক, প্রাপ্ত রেডিওটিকে কিছুদিন হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ালাম। সকালে উঠেই রেডিও নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতাম। কিছুদিন এভাবে ঘোরাঘুরির পর রেডিও থেকে মন উঠে গেল। কি কারণ ছিল, মনে পড়ছে না। রেডিওটির ভাগ্যে কি হয়েছিল কে জানে।

এরকম ঘটনা আরেকবার ঘটেছিল। বাবু আমার জন্য সুন্দর সুন্দর জুতা নিয়ে আসত। কিন্তু আমার পছন্দ ছিল পাশের বাড়ির ছেলে আমার সমবয়সী মনোরঞ্জনের প্লাস্টিকের জুতা। আমিও বায়না করলাম, আমার ঐরকম জুতা চাই। বাবুকে প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় মনে করে দিতাম আর বাবু প্রতিদিন রাতে ফিরে এসে বলত, “বানাতে দিয়ে এসেছি”। আমিও ভদ্র ছেলের মত বিশ্বাস করতাম। যাক অবশেষে জুতা বানানো শেষ হল, মানে বাবু সত্যিই প্লাস্টিকের জুতা কিনে নিয়ে আসলেন। কিন্তু একটু বেশি দামের। দেখে মন খারাপ হয়ে গেল। কারণ জুতাজোড়া মনোরঞ্জনের জুতাজোড়ার মত ছিল না।

সত্যিই কি পাগল ছিলাম আমি!

[ঘটনার সময় আমার বয়সকাল  ৪ থেকে ৫ বছর(অনুমান)। আমি ৭ বছর বয়সে গ্রাম থেকে মফস্বলে পাড়ি জমাই]

হাসতে চাইলে কমেডি লাগে না

 বৃষ্টি নেমেছে আজ আকাশ ভেঙ্গে

হাঁটছি আমি মেঠো পথে

মনের ক্যানভাসে ভাসছে তোমার ছবি

বহুদিন তোমায় দেখি না যে

                                       — এপিটাফ (সুমন)

গতকাল রাতে  চরম কমেডি ঘটেছে। আজ বিকেলে সেলিম স্যারের ক্লাস টেস্ট ছিল। পোলাপান যে দিবে না, সেটা আগেই বোঝা গিয়েছিল। কিন্ত সারাদিনে কোনও খবর নাই। রাতে মনে পড়ছে, সাথে সাথে স্যারকে ফোন। কিন্তু স্যার আর CR এর ফোন ধরেন না। অন্য আরেকজনের নাম্বার দিয়ে ফোন দেয়া হল। নাই, স্যারের কোন খবর নাই। একটু পর স্যার নিজেই কলব্যাক করেছেন। এবার এ পাশ থেকে যেই বলা হয়েছে “স্যার CR ফোন করেছিল”, সাথে সাথে স্যার ফোন রেখে দিয়েছেন। আর কোন খবরই নাই। যাই হোক, ৫০-৫০ চান্স নিয়ে কিছু না পড়ে ঘুমাতে গেলাম।

অবশেষে আজ ডিপার্টমেন্টে স্যারকে পাওয়া গেল এবং যথারীতি ক্লাস টেস্ট পেছানো হল। শান্তি!!! সারাদিনে মাত্র দুইটা ক্লাস।

অনাহূত……২০১২

আজ কুয়েটে ০৭ ব্যাচের বিদায় ও ১১ ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল।

সকাল ৮ টা থেকে ল্যাব ছিল; কন্ট্রোল সিস্টেম ল্যাব। মহিউদ্দিন স্যার ও জহির স্যারের। ভালই হল; দুটো সমস্যার সমাধান করতে পারলাম সাথে রিপোর্টে ভেরি গুড মার্ক। তাই বলে ভাবার কারণ নেই আমি খুব ভাল ছাত্র। আসলে উল্টা। আজকের দিনটা আলাদা ছিল।

সকালে ল্যাবের পর তিনটা ক্লাস ছিল। প্রথমটা পাওয়ার ইলেক্ট্রনিক্স; আমার ভালই লাগে। অনেক বিষয়ই ভাল লাগে, তবে নাম্বার পাই না। এরপর কমউনিকেশন; আমার প্রিয় বিষয়। পোলাপানের যন্ত্রনায় পিছনে সিট না পেয়ে সবার সামনে বসতে হল। মনে হয় ভার্সিটি লাইফে প্রথম বসলাম(এর আগে বসেছি হয়ত  ১ম বর্ষে; ১/২ দিন)। যাই হোক, অনিচ্ছা সত্ত্বেও মনোযোগ দিতে হল এবং বুঝতে হল; খারাপ হল না। এরপর পাওয়ার সিস্টেম; পুরো ক্লাস শুধু খাতায় কলম চালালাম। বিরক্তিকর।

ক্লাস থেকে এসে খাওয়া দাওয়া করে কিছুক্ষণ নেটে বসে ঝিমুতে লাগলাম এবং ঘুম এর রাজ্য থেকে ঘুরে আসলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি সোয়া পাঁচটা বাজে। মনে পড়ল গোসল করা হয়নি। গোসল সেরে বাইরে বেরুতেই মনে পড়ল আজ তো আমাদের ডিপার্টমেন্ট এর অনুষ্ঠান আছে। অডিটরিয়াম এর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় একটু উঁকি দিলাম, না কাউকে নজরে পড়ল না। মাঠের দিকে গিয়ে দেখলাম কেউ আছে কি না। একমাত্র তারেক কে দেখলাম ফুটবলের পেছনে দৌড়াতে। আবার অডিটরিয়ামের দিকে আসলাম, দরজা দিয়ে উঁকি দিতেই ইলিয়াস কে নজরে পড়ল। ২০১২ সালে প্রথম বারের মত অডিটরিয়ামে ঢুকলাম।

প্রথম পোস্ট

হুট করেই লিখতে বসে কি লিখব ভেবে পাচ্ছি না। যাই হোক, মনে যা আসে আসুক, তাই লিখে যাব। এই মূহুর্তে ছেলেবেলার অনেক কথাই মনে পড়ছে। বয়স বাড়ার সুবিধা হল, ফেলে আসা দিনগুলোকে অনেক বেশি সুন্দর লাগে। কিছু কিছু ঘটনা মনে পড়লে তো হাসিতে গড়াগড়ি খেতে মন চায়।

কিছুদিন আগে ভার্সিটি থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম বাসে করে। বাসে বসে আমার সবচেয়ে ভাল লাগে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতে, রাস্তার পাশের গাছ-পালা, বাড়ি-ঘর, মানুষজন দেখতে। সেদিনও অভ্যাসমত বাইরে তাকিয়ে আছি আনমনে। হঠাৎ নজরে পড়ল একটি বাড়ির বারান্দায় আলো জ্বলছে, আর সেই আলোতে বারান্দার মেঝেতে বসে পড়ছে কয়েকটি ছেলে-মেয়ে।

দেখেই মনটা কেমন জানি করে উঠল। মনে পড়ে গেল সেই ছোট্টকালের কথা। তখন আমি স্ট্যান্ডার্ড টু তে পড়ি। সেই সময় প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়তে যেতাম এক অ্যান্টির বাসায়। গরমের দিনে এমনি করেই মেঝেতে বসেই চলত কাজী নজরুল ইসলামের “আমি হব” কবিতা মুখস্ত করার কাজ। কি মধুর ছিল সেই দিনগুলো।