বানাতে দিয়ে এসেছি

আজ হঠাৎ ছোটবেলার একটা কাহিনী মনে পড়ল।

আমাদের গ্রামে প্রায় সবারই একটা না একটা রেডিও ছিল। আর আমাদের গ্রামে তখন রেডিও কে সবাই গান বলত। সবারই বিভিন্ন রকম রেডিও; কোনটা দুই বা তিন ব্যান্ডের আবার কোনটা আবার একদমই নরমাল। পথে-প্রান্তরে হাঁটতে, মাঠে কাজ করতে সবসময় গান(রেডিও) ছিল নিত্যসঙ্গী। আমার কাজ ছিল কড়া রোদে ঘুরে বেড়ানো আর কোথায় রেডিও আছে সেখানে ভীর জমানো কারণ কোন এক অজানা কারণে আমাদের কোন রেডিও ছিল না।

অবশেষে মায়ের কাছে আবদার করলাম, এবার একটা রেডিও চাই। মা বাবুকে (আমি বাবাকে বাবু ডাকি) বললেন। বাবুও এক কথায় রাজি তার একমাত্র ছেলের (তৎকালীন) আবদার পূরণ করতে। পরদিন অফিস থেকে আসার সময় বেশ দাম দিয়ে কভার ওয়ালা একটি রেডিও নিয়ে আসলেন। দেখে আমার মনটাই দমে গেল। অন্যদের গুলো কত সুন্দর চারকোণা, আর আমারটা কিনা কেমন জানি গোল গোল টাইপ আর কভার পড়া। কিছুদিন কভার খোলার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু মায়ের খবরদারিতে সম্ভব হয়নি।

যাই হোক, প্রাপ্ত রেডিওটিকে কিছুদিন হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ালাম। সকালে উঠেই রেডিও নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেতাম। কিছুদিন এভাবে ঘোরাঘুরির পর রেডিও থেকে মন উঠে গেল। কি কারণ ছিল, মনে পড়ছে না। রেডিওটির ভাগ্যে কি হয়েছিল কে জানে।

এরকম ঘটনা আরেকবার ঘটেছিল। বাবু আমার জন্য সুন্দর সুন্দর জুতা নিয়ে আসত। কিন্তু আমার পছন্দ ছিল পাশের বাড়ির ছেলে আমার সমবয়সী মনোরঞ্জনের প্লাস্টিকের জুতা। আমিও বায়না করলাম, আমার ঐরকম জুতা চাই। বাবুকে প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় মনে করে দিতাম আর বাবু প্রতিদিন রাতে ফিরে এসে বলত, “বানাতে দিয়ে এসেছি”। আমিও ভদ্র ছেলের মত বিশ্বাস করতাম। যাক অবশেষে জুতা বানানো শেষ হল, মানে বাবু সত্যিই প্লাস্টিকের জুতা কিনে নিয়ে আসলেন। কিন্তু একটু বেশি দামের। দেখে মন খারাপ হয়ে গেল। কারণ জুতাজোড়া মনোরঞ্জনের জুতাজোড়ার মত ছিল না।

সত্যিই কি পাগল ছিলাম আমি!

[ঘটনার সময় আমার বয়সকাল  ৪ থেকে ৫ বছর(অনুমান)। আমি ৭ বছর বয়সে গ্রাম থেকে মফস্বলে পাড়ি জমাই]

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s