মাঝে মাঝে কি যেন মাথায় আসে

আজকে রাতে বিশেষ ভুঁড়িভোজের আয়োজন করা হয়েছে আমাদের হলে। উপলক্ষ আর কিছুই না, ডঃ এম, এ, রশীদ হল অনেক বছর পর আন্তঃহল ফুটবল প্রতিযোগিতায় চাম্পিয়ন হয়েছে। প্রভোস্ট স্যার কথা দিয়েছিলেন আনলিমিটেড গরু খাওয়াবেন। আর হিন্দুদের জন্য থাকবে খাসি।

ফাইনাল ছিল শনিবার বিকেলে। সাধারণত, শনিবার বিকেলে আমার সিস্‌কো ক্লাস থাকে। ভাগ্যক্রমে, এই শনিবার ছিল না। তাই পুরো খেলাটা দেখা সম্ভব হয়েছিল। সেদিন, দুপুরের পর থেকেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। খেলাও শুরু হল বৃষ্টির মাঝেই। প্রথমে ভেবেছিলাম তাবুতে বসে খেলা দেখব, পাঁচ মিনিট পর বসে থাকতে পারলাম না। চলে এলাম সাইড লাইনে দাঁড়ানো লন্ড্রী মামার ছাতার নিচে। একটু পর সেখানেও থাকতে পারলাম না। হ্যানির ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে আধাভেজা হয়ে খেলা দেখলাম এবং খেলা শেষে যখন হলে ফিরেছি ততক্ষণে গলা ভেঙ্গে গেছে আর পুরো প্যান্ট কাদা দিয়ে মাখামাখি ।

গতকাল সেই গরু কিনে আনা হয়েছে এবং জুনিয়র পোলাপান সেই গরু নিয়ে মিছিলও করেছে। যাক অনেকদিন পর কিছু একটা তো পাওয়া গেল এই যন্ত্রমানবদের কারখানায় আনন্দ করার জন্য। আমরা ০৮’ব্যাচ যখন ক্যাম্পাসে এসেছি, প্রথম মনে করেছিলাম ইউনিভার্সিটি মানেই শুধু কালচারাল অনুষ্ঠান, আজ তা শুধুই সোনালী অতীত। আমার ১ম ও ২য় বর্ষে সবচেয়ে প্রিয় ছিল কুয়েট ফিল্ম সোসাইটির মুভি শো। গত এক বছরে মনে হয় সেরকম কোন ভাল মুভি দেখানো হয়নি অথবা হয়েছে, হয়ত আমি জানতেই পারিনি। কালচারাল অনুষ্ঠান তো এন্ডেমিক হয়ে গেছে। ক্যাম্পাস কেমন পানসে লাগে।

থাক এসব কথা ভেবে লাভ নেই। তার চেয়ে খাওয়ার প্রস্তুতি নিই।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s