0

এদের কত জামা

সেদিন বাসায় আমার কি কারণে যেন কাপড় নিয়ে কথা-বার্তা হচ্ছিল। হঠাৎ বাবু বলে উঠলেন, “তাহলে তোমাদের একটা গল্প বলি।” শুনে আমি ও আমার ছোট বোন চুপ করে গেলাম কারণ বাবু প্রায় কখনই আমাদের কোন গল্পও বলেন না, উপদেশও দেন না; অতি ঠান্ডা মানুষ। গল্পটা অনেকটা এরকম-

আমার বাবা ছোট বেলাতেই বাবাকে হারিয়েছেন আর বড় হয়েছেন মামার বাড়িতে। দারিদ্রতা কখনো ছিল না, কিন্তু হিসাবের বাইরে একটি পয়সাও খরচ করার সামর্থ ছিল না। আমার বাবার চার মামার দুই জনই তার সমবয়সী আর দেহের কাঠামোও অনেকটা কাছাকাছি।

বাবু কলেজে পড়েছেন ৭১’এর বছর ২-৩ পর। মফস্বলের কলেজ, ছাত্ররাও কাছাকাছি এলাকার। প্রায় সব ছাত্ররেই মাত্র একটি কি বড় জোর দুটি জামা। আমার বাবারও ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু তিন মামা-ভাগ্নে ভাগাভাগি করে একজনের জামা আর এক জন পরে যেতেন। আর তাই দেখে বাবু’র সহপাঠীরা ভাবত,”বাপরে, এদের কত জামা!!”

রমজানের ছুটি

রমজান ও ঈদের বন্ধের পর গতকাল প্রথম পিসির সামনে বসলাম। কিন্তু তেমন কোন কিছু করতে ইচ্ছা করছিল না। বন্ধে কে যেনো আমার পিসিতে “লংমার্চ” নামক নাটক রেখে গেছে। বসে বসে তারই ২-৩ পর্ব দেখলাম। হল ডাইনিং বন্ধ থাকায় বাইরে খাওয়া-দাওয়া করতে হল। দুপুরে খেলাম অভিলাসে। বিকেলে খুলনা গেলাম নেট অন করতে আর সেই সাথে রাতের খাবার সেরে আসতে।

এবার বন্ধটা কাটলো বেশ । প্রথমে খুলনা থেকে ট্রেনে ঢাকা তারপর বাসে চট্টগ্রাম গেলাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং নিতে। রথ দেখা ও কলা বেচা। মানে ট্রেনিং হল, সাথে শহরটা ঘোরাও হল। চট্টগ্রামে পাঁচ দিন থাকার পর আবার ঢাকা ফিরলাম। ঢাকায় জগন্নাথ হলে এক রাত কাটালাম মিঠুর বিছানায়। হলের অবস্থা বেশ শোচনীয়, এক রুমে ৯ জনকে থাকতে হয়। মাঝখানে আমি উপস্থিত হওয়ায় একজনকে ছাদে থাকতে হয়েছিল(পরদিন সকালে শুনেছি)। পরদিন রাতে রওনা দিলাম বাসার উদ্দ্যেশে।

বাসায় একদিন কাটিয়ে পরদিনই যেতে হল বড় মাসীর বাসায় আমার মায়ের মা’কে (আমি দিদিমা ডাকি) নিয়ে আসতে। এরপর থেকে বাসায় শুধু আত্মীয়স্বজন আসতে লাগল।প্রথমে আসলেন আমার আর এক মাসী তার দুই মেয়েকে নিয়ে। তিনি দুই দিন থেকে চলে যাবার পর আমার ছোট বোন এল সেই মাসীর অন্য আর এক মেয়েকে নিয়ে। মাঝখানে আমার ঠাকুরমা এসে থেকে গেলেন। তারা চলে যাবার পর ঈদের এক দিন আগে আমার মামার বাড়ির দূর সম্পর্কের আত্মীয় এল। পুরাই জমজমাট অবস্থা।

এর আগে অবশ্য এক দিন আমার কলেজে পড়াকালীন রুমমেট জিম হঠাৎ ফোন করে দেখা করতে চাইল। ওকে বাসায় নিয়ে আসলাম। প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ওর সাথে দেখা হল। ঈদের একদিন পর আমি আর রাতুল ওর বাড়ি ঘুরে আসলাম। এর মাঝে একদিন পলাশবাড়ী গেলাম ড্রিমল্যান্ড দেখতে, আর একদিন মহাস্থানগড়ে।

বেশ কাটল।

মাঝে-মাঝে মনে হত শিক্ষা-জীবনের শেষ রমজানের ছুটি বলেই হয়ত এমন হল।