সেলুকাস মানে কি বিচিত্র

গত কয়েকদিন থেকেই মেজাজটা গরম হয়ে আছে। এমন একটা ফালতু বিষয়ে জড়িয়ে গেছি, কি বলব!

ঘটনার শুরু গত বুধবার বা তার আগে। আমার সাবেক রুমমেট হ্যানি (ম্যান) সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে একটা প্রেম করায়ে ছাড়বে। আর সে এজন্য পাত্রী দেখাও শুরু করেছে। ঘটনা এতটুকু হলে ভাল হত।

কিছুদিন আগে সে আমাকে জানায় তার একজন পছন্দ হয়েছে, আমি রাজি কি না আর সমবয়সী হলে আমার কোনো সমস্যা আছে কি না!! আমি তো ফাজলামি ভেবে বললাম, অবশ্যই রাজি আর সমবয়সী কেন, বেশি হলেও সমস্যা নেই। সে খুশি মনে চলে গেল।

তার দু-একদিন পর মানে বুধবার সে আমাকে ফেসবুকে একটা মেসেজ পাঠায় যা কোন কারণে আমার চোঁখ এড়িয়ে যায়। কিন্তু সে আমাকে জানায় একজন আমাকে বেশ পছন্দ করে। তখন আমার মেসেজের কথা মাথায় আসে। রুমে এসে পিসি খুলে মেসেজ বক্স চেক করতেই আমার চোঁখ মাথায়!!!

লি না !!!!!

“হ্যানি আমাকে মেসেজ দিয়ে জানিয়েছে লি না আমার বিষয়ে পজিটিভ। আমি একটু ট্রাই করে দেখব কিনা।”

পুরো ব্যাপারটা কেমন জানি মনে হল। এইসব কি!! WTF!!!!!

পরদিন মাথা একটু পরিষ্কার হল। ভাবলাম, হ্যানি এইসব জানলো কি করে? তার মানে লি না এর সাথে ওর কথা হইছে। আর সেটা অবশ্যই ফেসবুকেই হইসে। ভাবামাত্র হ্যানির ঘরে চলে গেলাম। ঘরে নেই বদটা। ওর পিসি সবসময়ই অন থাকে (ডাউনলোড চলে)। ব্রাউজারটা খুলে ফেসবুক ওপেন করলাম। যাক সাইন ইন করাই আছে। এবার মেসেজ বক্সে হানা দিলাম। যাক পাওয়া গেল। লি না এর সাথে ওর চ্যাটের হিস্ট্রি।

একই সাথে মাথা একটু ঠান্ডা হল কিন্তু মেজাজ খারাপ হল। ইতিহাস অনেকটা এরকম – আমাকে লি না এর বিষয়ে মেসেজ করার আগে সে লি না কে বলেছে, “I have a crush on her” (WTF!!!) এবং সে আমার সাথে একটু কথা বলবে কি না। উত্তরে মেয়েটি বলেছে যে আমি হ্যানিকে ঘটক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি কি  না। হ্যানি এটাকে পজিটিভ ধরে আমাকে মেসেজ দেয়। ব্যাপারটা মাথার ভিতর পোকার মত বাসা বাঁধে।

মাঝে মাঝে মনে হত, “হ্যানিকে কড়া কিছু কথা বলি, How has he guessed that I have a crush on her?”. না, সেটা সম্ভব না। কারণ কুয়েটে কিছু এন্ডেমিক প্রানী আছে যারা ন্যাচারালি ভাল এবং অনেকের জন্য অনেক কিছু করে, তার মাঝে সেও আছে।

যাক, ব্যাপারটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করছি। একটু সমস্যা হচ্ছে বটে।

মেয়েটি আগে থেকেই আমার ফেবুতে ছিল। গত পরশু রাতে মেয়েটি তার ফেবু প্রো-পিক চেঞ্জ করেছে। আগে কখনই তার চেহারা নিয়ে মাথা ঘামাই নি। এইবার কেমন যেন মনে হল। প্রো-পিকে ক্লিক করলাম এবং একে একে আগের সবগুলো পিক দেখলাম।

সত্যিই সেলুকাস!

Advertisements

PGCB ট্যুর

শনিবার আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম কোনো পাওয়ার স্টেশনে নিয়ে যাবে। পরে দেখলাম PGCB, হোগলাডাঙ্গা, খুলনা। মানে পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন। জায়গাটা বেশ সুন্দর ও সাজানো গোছানো। সরকারি জায়গা এমন হবে ভাবতে পারি নি।

PGCB, হোগলাডাঙ্গা, খুলনা।

পাঁচমিশালি দিনের কথা

একটু আগে সেমিস্টারের ২য় সেমিনার শেষ করে আসলাম। আজকের সেমিনার বেশ ভাল লেগেছে। প্রথম দিনের মত স্যারদের খিটখিটে মেজাজ ছিল না। থাকবেই বা কি করে, কারণ আজ বোর্ডে ছিলেন আঃ রফিক স্যার ও সাইফুর স্যার। সাইফুর স্যার মাটির মানুষ, তবে ছাত্র সমাজে কথিত আজে তিনি জায়গামত নাম্বার দেন না। যাই হোক, আজ মোটামুটি সব পোলাপানই কথা বলতে পেরেছে। প্রথমদিন তো কিছু ছেলের একেবারে যা তা অবস্থা হয়েছিল। বিশেষ করে, সৈকত বেচারা একটা শব্দও বলতে পারে নি। বেচারাকে রিপিট দেয়। ওর চেহারা দেখে সেদিন আমার একই সাথে হাসিও পেয়েছিল আবার দুঃখও লেগেছিল।

আজ জাহিদের একটা বিষয় দেখে হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা হচ্ছিল প্রায়। কে যেন ওকে একটা প্রশ্ন করে, আর সে স্লাইড দেখিয়ে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বুঝে উঠতে পারে না কোনটা। পয়েন্টার একবার এক স্লাইডে রাখে তো আরেকবার অন্যটায় (লিখে প্রকাশ করতে পারছি না)। মনে হয়, সে উত্তর জানত না। তাই স্যারদের সামনে কিছু একটা করতে চাইছিল।

এছাড়া আরো কিছু মজার ঘটনা ঘটেছে।

আজ সেমিনারের কাজের জন্য বেশির ভাগ ছাত্র ক্লাসে যেতে পারে নি। সাথে বৃষ্টিও ছিল। আর আজকের দিনটাকেই সেলিম স্যার বেছে নিলেন স্পট টেস্টের জন্য।

গত রবিবার মাইক্রোওয়েভ ক্লাস টেস্ট ছিল। তো কিছু চোথা ফটোকপি করার জন্য পকেট গেটের সামনে নতুন অর্পণ ফটোস্টাটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় দেখি এক লোক হাতি নিয়ে যাচ্ছে। হাতি আমাদের দেশে সচরাচর দেখা যায় না। তাই পকেট থেকে আমার নোকিয়া ৩১২০ ক্লাসিক বের করে একটা শট নিয়ে নিলাম।

হাতি

ইদানিং বেশ নস্টালজিয়ায় ভুগছি!