তোর ফোন পেয়েছিলাম বলেই হয়তো

পূজা + কুরবানীর ঈদ – সেইরকম একটা সময় গেল গত কয়েকদিন। ভাগ্যিস রাতুল সেদিন ফোন করল আর আমিও চট করে ভোল পাল্টে বাড়ির টিকিট কেটে রওনা হয়ে গেলাম কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে। আর তার আগেই ঘটে গেল আর একটি ঘটনা। পোলাপান আমার পেছনে যে কি হারে লেগেছে তা টের পেলাম।

কয়েকদিন আগে কথায় কথায় তুষার জানতে চেয়েছিল আমি বর্ণপ্রথা বিশ্বাস করি কি না। আমি ভেবেছিলাম সে হয়তো কৌতুহল বশত জানতে চেয়েছে। তাই আমিও হালকা পাতলা জবাব দিলাম। সে আরও বলল খুব টেনশনে আছে, কার জন্য নাকি পাত্র খুঁজছে। আমি ভাবলাম, ওর কাজিন টাজিন হবে মনে হয়। আমি আর কথা বাড়ালাম না।

এর মাঝে তুষার কয়েকদিন আমাকে ফেবুতে নক করেছে কিন্তু ঠিক সেই সময়ে আমি কেন জানি অফলাইনে চলে যেতাম। আমার বাস ছিল সাড়ে আটটায়। সবকিছু গুছিয়ে সাতটার দিকে কি কারণে যেন ফেবু ঢুকেছি, আর সাথে সাথে তুষারের মেসেজ, কি মিয়া কথা কও না কেন? আমি ভাবলাম, পোলা মাইন্ড খাইছে, কিছুক্ষন কথা বলি। আমারে বলে, কি মনে আছে তো? আমি আন্দাজে বললাম, আবার জিগায়। ও বলল, বলতো কোন ব্যাপারে? আমি ভাবলাম, বেচারা ওর ডেটিং নিয়ে কিছু আশা করছে বোধহয়।আমি আবার আন্দাজে মারলাম, ডেটিং। ও বলল, ঠিক। এরপর যা বলল তাতে আমি পুরাই থ বনে গেলাম।

তুষারের ভাষায়, “আমি ওকে তোমার কথা বলেছি, তুমি কি একটু কথা বলবা, মেয়েটি খুবই ভাল, তোমার সাথে ম্যাচ করবে হাবিজাবি হাবিজাবি হাবিজাবি, আমি তোমাকে আইডি পাঠাচ্ছি, খুজে পেয়েছ, হ্যা দুইটা বাচ্চার ছবি আছে”?

আমি শুধু বললাম, আমার রিকোয়েস্ট যদি রিচিভ না করে? ও বলল,”আরে করবে, আমি বলে রেখেছি”। আমি ভাবলাম, পোলাপান এত টাইম পায় কখন আর আমি তো তুষারের সাথে কখনো এ বিষয়ে আলাপ করি নাই। ইতিমধ্যেই ফেবুতে এড করা শেষ। আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল, এই বুঝি বলদ সাজলাম। যাই হোক, তুষার আমাকে শুভকামনা জানিয়ে বিদায় নিল। আমি কিছুক্ষণ মনিটরের দিকে তাকিয়ে জীবনে সম্ভবত প্রথম বারের মত কোন অপরিচিত মেয়েকে হাই পাঠালাম। পরবর্তী কিছু সময়ের মাঝেই সিদ্ধান্ত নিলাম, বেশিদুর সম্ভব না।

যেটা লিখতে বসা সেটাই লেখা হয়নি। এবার অনেকদিন পড় বন্ধুরা মিলে খেলাধুলা করলাম, যদিও বাজিতে গু হারা হেরেছি। প্রথম বারের মত আয়োজিত বাণিজ্য মেলায় প্রতিদিন গিয়েছি, রাতুলের জন্য প্রতিদিন একটা করে প্রেমিকা নির্বাচন করেছি, এয়ার গান দিয়ে বেলুন ফুটিয়েছি, নাগর দোলায় উঠে চোঁখ বন্ধ করে বসে থেকেছি, চরকিতে ঘুরেছি, আনলিমিটেড পপকর্ন খেয়েছি, নিরুতে গিয়ে নস্ট ডাল দিয়ে পুরি গিলে শান্তির ঢেকুর তুলেছি। ও আরো একটা বাকি আছে, পাগলাকে এক কেজি মিষ্টি কিনে দিয়েছি। আর একটা গানের কলি নিয়ে ফিরে এসেছি-

আমি যারে চাইরে,

সে থাকে মোরই অন্তরে ।।

আমি তারে পেয়েও হারাই রে ।।

——— গুরু আজম খান

আমি ছাড়া এই তিন লাইনের মর্ম কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব না।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s