ঘুরে এলাম কুয়াকাটা থেকে -১

এবারের ট্যুর’টা একরকম হঠাৎ করেই হয়ে গেল। সুদীপ্তদের অ্যাটাসমেন্ট ক্যান্সেল হয়ে গেল আর আমারও তেমন কোন প্লান ছিল না। তাই ওরা এসে যখন আমন্ত্রণ জানালো, এক কথায় রাজি হয়ে গেলাম। মনের মাঝে সবসময়ই ঘোরা-ফেরার ইচ্ছা থাকলেও হয়ে ওঠে না। এবার আর মিস করতে চাই না।

তো ২৩ তারিখ রাতে বি, আর, টি, সি এর “স্পেশাল” বাসে করে আমরা দশজন রওনা দিলাম । রাস্তাটা খুলনা থেকে পিরোজপুর হয়ে বরগুনা, বরিশাল, পটুয়াখালী এবং কুয়াকাটা। মাঝখানে মাত্র পাঁচটা ফেরি পার করতে হয়। ঢাকা-খুলনা রুটে বাস ফেরির জন্য অপেক্ষা করে, আর এখানে তার বিপরীত। রাস্তাগুলো বেশ সরু হলেও গাড়ি শুন্যের কাছাকাছি থাকায় ওয়ান ওয়ে রোডের মত লাগে অনেকটা।

৫ টা ফেরি ঘাটের মাঝে শুধু একটার নাম খেয়াল করতে পেরেছি। পিরোজপুরে কীর্তখোলা নদীতে কুমির মারা ঘাট। এই নদী টা তুলনামূলকভাবে বড়। বাকি ঘাটগুলোর নাম ঘুমের কারণে মিস হয়ে গেছে। শেষ ৩ টা কুয়াকাটার কাছাকাছি, এর ২ টা তে ব্রিজ হচ্ছে।

যাই হোক, সকাল ৬ টায় আমরা কুয়াকাটায় পৌছলাম এবং আধা ঘন্টা খানেক ঘোরাঘুরি করে একটা হোটেলে ২ টা রুম ভাড়া করে নাস্তা করতে বের হলাম। নাস্তা শেষে ঠিক করা হল ঘুরতে বের হব। এখানে ঘোরা-ঘুরির জন্য মোটর-সাইকেল খুব প্রচলিত। আমরাও ১০ জনের জন্য ৫ টা বাইক ভাড়া করলাম।

জায়গাগুলোর নাম সব মনে নেই। তবে আমরা সাগর তীর দিয়ে ঝাউবন হয়ে লাল কাঁকড়ার চর পর্যন্ত টানা গিয়েছি। মাঝে যেখান থেকে সূর্যোদয় দেখা হয়, সেই জায়গা দেখলাম।

লাল কাঁকড়ার চর দেখে আমরা গেলাম মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ বিহার দেখতে। এই বিহারের একটি নিজস্ব স্কুল আছে, যেখানে ফ্রিতে লেখাপড়া শেখানো হয়। দেখে বেশ ভাল লাগল। পাশেই রাখাইন পল্লী। আমরা একটি বাড়িতে ঢুকে তাদের বাড়িগুলো দেখলাম। তাদের মধ্যে কয়েকজন তখন বসে হাতে বিভিন্ন ধরনের কাপড় তৈরী করছিলেন। ওদের বাড়িগুলো একটু আলাদা। দ্বি-তল বাড়ি, নিচের তলা-টা ফাঁকা। সেখানেই কাপড় তৈরীর কাজ চলে।

এরপর এদিকটা দেখা শেষ। ফেরার পথে রাখাইন মার্কেটে নামলাম, যদিও বেশির ভাগ দোকানই বন্ধ ছিল। পাশেই একটি বৌদ্ধ মন্দির, বেশ সুন্দর। সেখানে কিছু সময় কাটালাম।

দুপুরে কোথায় খাওয়া হবে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছিল। সিদ্ধান্ত হল ফাতরার বনের পাশে খাবার দোকান আছে, সেখানে নাকি টাটকা মাছ ভাঁজি পাওয়া যায়। তো বাইকওয়ালাদের আর কিছু বেশি টাকা দিয়ে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হল।

গিয়ে দেখলাম কয়েকটি বাক্সে ইলিশ, কাঁকড়া, চিংড়ি, রূপচাঁদা আর একটা মাছ (নাম মনে নাই) রাখা আছে। আমরা একটা ইলিশ, রূপচাঁদা আর সেই নাম না জানা মাছের অর্ডার দিলাম। সাথে জানলাম শুধু মাছ খেতে হবে, ভাতের কোন আশা নেই। এমনেতেই, পেট জ্বালা করছিল, এবার হাহাকার করে উঠল।

এর মাঝে কয়েকজন কাপড়-চোপড় নিয়ে এসেছিল সাগরে ডুব দিতে। কিন্তু পানির অবস্থা ঠিক সুবিধার লাগল না। শুধু নীলি একটু চেষ্টা করে দেখল।

আধা ঘন্টাখানেক পর আমাদের খাবার তৈরী হয়ে গেল। আমরা সবাই মিলে ভাগ করে খেলাম।

তারপর সবাই হোটেলে ফিরে এসে স্নান করে লম্বা ঘুম দিলাম। কারণ বিকেলে সূর্যাস্ত দেখতে যাব।

বিকেলে নাস্তা করার পর আমরা সাগর তীরের দিকে হাঁটা দিলাম। তীরে এসে মন ভেঙ্গে গেল। সূর্য ডুব দিয়েছে। কালকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। যাই হোক সবাই মিলে একটু হাঁটাহাঁটি করলাম, সন্ধ্যা পেরিয়ে গেল। সন্ধার পর সাগর আলাদা রূপ ধারণ করে। অসাধারণ সেই রূপ।

আটটা পর্যন্ত থেকে সেদিনের মত ফিরে এলাম। খাবার খেয়ে হোটেলে ফিরলাম।

তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে। কাল সকালে সূর্যোদয় দেখব। প্রায় আট কিলোমিটার। ঠিক করেছি হেঁটেই যাব।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s