0

ছেলেটি কে?

আগে বেশ মজার একটা জিনিস চালু ছিল। কোন ছোট বাচ্চা কোন আত্বীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেই বাড়ির স্কুল পড়ুয়া ছেলে বা মেয়েটি তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যেত।

আমার হালকা মনে আছে, মাসতুতো ভাইদের সাথে তাদের স্কুলে গেছি কয়েকবার। তাদের বন্ধুবান্ধবেরা আমার নাম, বাড়ি কোথায়, বাবার-মায়ের নাম ইত্যাদি জানতে চেয়েছে। স্যারেরা এসে জানতে চাইত, ছেলেটি কে? তখন দাদারা ঘোষণা দিত, আমার মাসীর ছেলে। তারা আমাকে নানান খাবার কিনে খাওয়াত।

আমার পিসিদের কেও দেখেছি বেশ কয়েকবার তাদের সাথে কাউকে নিয়ে যেতে। বিষয়টা একই সাথে অদ্ভুত ও মজার।

আমি নিজে কখনও কাউকে নিয়ে গেছি কিনা মনে করতে পারছি না। মনে হয় নিয়ে যাইনি। বরাবরই আমি একটু শরমিন্দা টাইপের। তবে আমার ছোট বোন মনে হয় কয়েকবার নিয়ে গেছে।

আজকাল মনে হয় এমনটা আর দেখা যায় না।

0

ঘুরে এলাম কুয়াকাটা থেকে – ২

আগের দিনই ঠিক করা ছিল সূর্যোদয় দেখতে হেঁটে যাব। এ কারণে ভোর চারটায় সবাই ঘুম থেকে উঠলাম (কেউ কেউ উঠতে না চাইলেও জোরপূর্বক ডেকে তোলা হল)। বেরোতে বেরোতে প্রায় সাড়ে চারটা বেজে গেল। বাইরে তখনও অন্ধকার। বেশ ঠান্ডাও পড়েছিল।

যাই হোক, সবাই হাঁটা শুরু করলাম। কিছুক্ষণের মাঝেই টের পেলাম যতটা কাছে ভেবেছিলাম ততটা কাছে নয়। ডান পাশে সাগরের গর্জন, বামে ঝাউবন, আশেপাশে জনমানব নেই। বেশ একটা গা ছমছমে ভাব। সবাই চেষ্টা করছিলাম কাছাকাছি থাকার পর। তারপরও দুই একজন পিছিয়ে পড়ছে, আবার দুই একজন সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। বারবার সবাইকে সাবধান করে দেয়া হচ্ছে। একে তো অচেনা জায়গা, তার উপর জনমানবহীন। পুরো ব্যাপারটা বেশ রোমাঞ্চকর।

এদিকে হাঁটছি তো হাঁটছি, পথের তো শেষ হয় না। বেশ খানিক পর (৩০-৩৫ মিনিট) প্রথম একটি বাইক দেখতে পেলাম। একটু সাহস ও উৎসাহ পেলাম। যাক, ঠিক পথেই চলেছি। তারপরও পথ শেষ হয় না। একে একে বাইক যায়, আসে আর আমাদের বলে, “মামা, হেঁটে যেতে পারবেন না, এখনো অনেক দূর।”

অবশেষে ৬ টা বাজার মিনিট ১০ আগে আমরা গন্তব্যে পৌঁছলাম। অনেক লোক এর মাঝেই বাইকে করে এসে গেছে। এবার সূয্যি মামার জন্য অপেক্ষার পালা। না, মামার দেখা নেই। সাথে আনা বিস্কুটগুলো ততক্ষণে শেষ।

হঠাৎ পুব দিগন্তে লাল থালার মত একটা কিছু দেখা গেল। আর সাথে সাথে জনতার হাত তালি। চমৎকার মুহুর্তু। যদিও সাগর থেকে বেশ খানিকটা উঁচুতে । সাথে সাথে জনতার ক্যামেরা চলতে লাগল। বিভিন্ন ঢঙে তোলা হল নানা ছবি(আমিও তুলেছি)।  সেই সাথে সাগরের পানিতে খানিক নাচন-কুদন করলাম।

সূর্যোদয় - কুয়াকাটা

সূর্যোদয় – কুয়াকাটা

ঘন্টা খানেকের মাঝে সূর্যের ভোল্ট যখন ১০০ এর বেশি হতে চলল, তখন বুঝলাম এবার ফেরার পালা।

ফেরার সময় আবার সেই হন্টন। কয়েকজন অবশ্য বাইকে করে ফিরে গেল। আমিও দো-টানায় ছিলাম। পরে ঠিক করলাম, না হেঁটেই যাব। চলে এলাম।

নাস্তা সেরে হোটেলে এসে আরেক দফা বিশ্রাম নিলাম। ১২ টার মাঝে হোটেল ছেড়ে দিতে হবে। আমাদের ফেরার বাস সাড়ে ৫ টায়। মানে এতটা সময় বাইরে কাটাতে হবে।

আমরা হোটেল ম্যানেজারকে বলে একটা রুমে সব ব্যাগ রাখার ব্যবস্থা করে ১২ টার দিকে বের হলাম। একটু এদিক সেদিক করে দুপুরের খাবার খেতে গেলাম। ইলিশ মাছ, আলু ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা দিয়ে বেশ খাওয়া হল। এখন একটা বসার জায়গা খুঁজতে হবে।

বেশ খানিক খোঁজার পর নীলাঞ্জন একটা সুন্দর জায়গা বের করল সাগরের তীর ঘেঁষে। এখানে ঘন্টা কয়েক কেটে গেল গল্পে, আড্ডা আর তাস পিটিয়ে। মাঝখানে জাহিদ গিয়ে শুঁটকি কিনে আনল।

একটু পরেই বিকেল হয়ে গেল। আমরা কুয়াকাটার আরেক আকর্ষন সূর্যাস্ত দেখার জন্য রওনা হলাম।

আগের দিন একটুর জন্য মিস করেছি। তাই আগেভাগেই চলে এলাম। এখানে পড়ন্ত বিকেলটা একদম অন্যরকম, অসাধারণ।

যাই হোক, এবার আর মামা ডুবছে না। অনেকক্ষণ ফটোগ্রাফী চললন।শেষ পর্যন্ত মামা অস্ত গেলেন আর আমরা বি, আর, টি, সি কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেলাম।

সূর্যাস্ত - কুয়াকাটা

সূর্যাস্ত – কুয়াকাটা