0

সারাদেশে অস্থিরতা

আজ জুমার নামাজের পর থেকে সারা দেশে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। শাহবাগ আন্দোলন বিরোধিতাকারীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় গনজাগরণ মঞ্চ ভেঙ্গে ফেলেছে। সিলেটে শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। ভাষার মাসে এ থেকে লজ্জার আর কি হতে পারে।

বায়তুল মোকারম মসজিদ এর সামনের রাস্তা থেকে এ সংঘর্ষের সূচনা ঘটে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে এখনো পুলিশের সাথে সংঘর্ষ চলছে। এ সংঘর্ষে নতুন মাত্রা হল সবার আগে সাংবাদিকদের আক্রমন করা হয়েছে, যাতে তারা সময়মত সংবাদ জানাতে না পারে। গুলি, ককটেল আর বোমাবাজি চলছে। কয়েকজন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

জনতা শাহবাগের দিকে ছুটছে।

দেশ হয়তো গৃহ-যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

0

বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল

নন্দলাল

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
………………………………………………………………………………………………………….

নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ –
স্বদেশের তরে, যা করেই হোক, রাখিবেই সে জীবন।
সকলে বলিল, ‘আ-হা-হা কর কি, কর কি, নন্দলাল?’
নন্দ বলিল, ‘বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল?
আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?’
তখন সকলে বলিল- ‘বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।’

নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তারে কেবা!
সকলে বলিল, ‘যাও না নন্দ, করো না ভায়ের সেবা’
নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই-
না হয় দিলাম, -কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি?
বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারিদিক’
তখন সকলে বলিল- ‘হাঁ হাঁ হাঁ, তা বটে, তা বটে, ঠিক।’
নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির,
গালি দিয়া সবে গদ্যে, পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির;
পড়িল ধন্য দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন;
লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায়, খায় তার দশ গুণ;
খাইতে ধরিল লুচি ও ছোকা ও সন্দেশ থাল থাল,
তখন সকলে বলিল- ‘বাহবা বাহবা, বাহবা নন্দলাল।’

নন্দ একদা কাগজেতে এক সাহেবকে দেয় গালি;
সাহেব আসিয়া গলাটি তাহার টিপিয়া ধরিল খালি;
নন্দ বলিল, ‘আ-হা-হা! কর কি, কর কি! ছাড় না ছাই,
কি হবে দেশের, গলাটিপুনিতে আমি যদি মারা যাই?
বলো কি’ বিঘৎ নাকে দিব খত যা বলো করিব তাহা।’
তখন সকলে বলিল – ‘বাহবা বাহবা বাহবা বাহা!’

নন্দ বাড়ির হ’ত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি;
চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি,
নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে ‘কলিসন’ হয়;
হাঁটতে সর্প, কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়,
তাই শুয়ে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল
সকলে বলিল- ‘ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক্ চিরকাল।’

তুমি যে আছ তাই, আমি পথে হেঁটে যাই

মানসিক শক্তি যে কি জিনিশ, তার একটা সত্যিকারের প্রমাণ পেলাম গতকাল। আর তার সাথে যদি সম্মিলিত প্রয়াস থাকে তাহলে সেই শক্তি বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এসব কথা বলার কারণ হল, গতকাল সকালে আমরা কুয়েটের প্রায় শ’পাঁচেক ছাত্রছাত্রী কুয়েট থেকে হেঁটে খুলনার শিববাড়ি গিয়েছি রাজাকার বিরোধি আন্দোলনে যোগ দিতে। পথ প্রায় ১৩ কিলোমিটার। তার চেয়েও বড় কথা হল মাথার উপর ছিল কড়া রোদ।

১৩ তারিখে শোনামাত্রই সিধান্ত নিয়েছিলাম যাব। প্রথমে ভেবেছিলাম, খুব বেশি ছাত্র হয়ত আগ্রহ দেখাবে না। আর যারা শুরু করবে, তারাও হয়ত মাঝপথে গিয়ে হারিয়ে যাবে। পরদিন সকাল বেলাতেও সেই রকম আভাসই পেয়েছিলাম। কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে আশাতীত ছাত্রছাত্রী এসে জমা হল অডিটোরিয়াম এর সামনে। ‘জয় বাংলা, জয় জনতা’ স্লোগান দিয়ে শুরু হল যাত্রা।

পুরো পথ জুড়ে চলল হরেক রকম স্লোগান, অনেকের চোঁখে-মুখে ক্লান্তির ছায়া। কিন্তু কেউ দমবার পাত্র নয়। কারণ শারীরিক ক্লান্তি হয়ত এসেছে, কিন্তু মানসিক ক্লান্তি আসার কোন উপায় নেই। সাথে কিছু মেয়েদের দেখলাম। আমার ধারণা ছিল, এরা মাঝপথে গিয়ে হারিয়ে যাবে নিশ্চিত। কিন্তু ওরা আবার আমাকে ভুল প্রমাণিত করল। বুঝলাম ৭১ এ এই মানসিক শক্তিই বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে।

যখন শিববাড়ি পৌঁছলাম তখন সবার চোখে-মুখে অন্যরকম এক প্রশান্তি। হ্যাঁ, আমরা চাইলে সব পারি।

গতকাল ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালবাসা দিবস। ভালবাসার এই দিনে দেশকে এই সামান্য ভালবাসা দিতে পারা আমার জন্য এক অনন্য অনুভুতি।

আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি। সরস্বতী পূজা। এবার কুয়েটেই পূজা করছি।

0

শাহ্‌বাগ থেকে শিববাড়ি

একটু আগে শিববাড়ি মোড় থেকে ফিরলাম। গতকাল রাতেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আজকে সারা দিনের সব ধরনের একাডেমিক কর্মসূচি বর্জন করে সকালে শিববাড়ি মোড়ে যাওয়া হবে সেখানে রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন চলছে। সেই অনুযায়ী সকাল সাড়ে দশটায় আমরা ভার্সিটির বাসে করে রওনা দিলাম। তার আগে অবশ্য ঝটিকা স্লোগান হয়ে গেল। বাসের ভেতর চলল হরেক রকম স্লোগান।

বাস থেকে নামলাম শিববাড়ি মোড় থেকে বেশ আগে। তারপর সেখান থেকে স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে গেলাম। কখনো ভাবিনি, খুলনার রাজপথে নামব। কিন্তু আজ সত্যিই অন্যরকম ভাল লাগার অনুভূতি ছিল এই রাজপথে।

আন্দোলনস্থলে পৌঁছার পর যে অনুভূতি হল তা এক কথায় অসাধারণ । যদিও এটা ঢাকা নয়, এটা শাহবাগ নয়, এখানে অজস্র জনতা নেই, তবু খুলনার শিববাড়ি মোড়ে আন্দোলনরত হাজার খানেক তরুন-তরুণী অনেকের চোঁখ খুলে দিল, দেশপ্রেম নতুন করে শিখিয়ে দিল। অল্পক্ষণের মাঝেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রিরা আমাদের সাথে যোগ দিল। চলল লাগাতার স্লোগান আর দেশের গান।

এখানে নেই কোন দল, কোন বর্ণ, কোন ধর্ম। এখানে সবাই বাঙ্গালী, সবার দাবি একটাই, “রাজাকারের ফাঁসি চাই”।

0

পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল

আজ কয়েকদিন থেকে সারাদেশে আন্দোলনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। গত ৫ তারিখে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিচারের রায় ঘোষণা করা হয়। সারা দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল ফাঁসি হবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারকগণ ১৫ বছরের সাজা ঘোষণা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সারা দেশের মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ ও পত্র-পত্রিকাগুলোতে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শাহবাগে জড়ো হয়েছে হাজার হাজার মানুষ যার বেশির ভাগই ছাত্রছাত্রী। কাল মহাসমাবেশ আছে, আর তাতে রাজনৈতিক নেতাদের যাওয়া নিষেধ। আমাদের ক্যাম্পাসেও আজ মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এরই মাঝে ৫-৬ তারিখে জামায়ত-শিবির হরতাল পালন করে বিচারের প্রতিবাদে।

দুই দিন হরতালের পর আজ সবগুলো ক্লাসই হল। বায়োমেডিকেল ক্লাসের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা এসেছিলেন। বেশ মজার মানুষ। পুরো ক্লাস হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা হয়ে যাচ্ছিল। ডিএসপি ল্যাবে আজ একটুও বিরক্ত লাগে নি। সাইফুর স্যার যে কেন আমাদের ম্যাটল্যাব কোর্স নেননি!! পোড়া কপাল।

আজ ‘ক্ষ’ এর আর একটি গান (পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল) শুনলাম। তেমন ভাল লাগেনি। এর চেয়ে ‘আমার সোনার বাংলা’ বেশি ভাল লেগেছে । যদিও অনেকে গানটির গাওয়ার শুরু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে আমার কাছে ভাল লেগেছে।

‘ক্ষ’ এর সাউন্ডক্লাউড লিঙ্ক