0

কেল্লা কাবাব

গত মঙ্গলবার গেলাম লালবাগ কেল্লা। সেই ২০০৬ সালে কলেজে ভর্তির পর একবার এসেছিলাম। তারপর এই এবার আসলাম। বেশ ভাল লাগল। আগের তুলনায় অনেক বেশি লোক আসে এখন। অনেক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নও বটে। আর অনেকগুলো ইলেকট্রিক লাইট লাগানো হয়েছে বেশ কায়দা করে যাতে কেল্লা দেখায় ঠিক কেল্লার মত। শায়েস্তা খাঁ আমলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, সমরাস্ত্র দেখলাম। এরপর বেশ খানিকক্ষণ বসে মানুষজনকে পর্যবেক্ষণ করলাম। সবচেয়ে ভাল লাগল ছোট শিশুদের বাধঁণছাড়া ছুটতে দেখে। আজ অন্তত এক বেলার জন্য ওরা স্বাধীণ। আর এক শ্রেণীর মহিলাদের দেখলাম পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাথে নিয়ে এসেছেন মেয়েকে। কপোত-কপোতীরা তো সবসময়ই ছিল এবং থাকবে। তবে তারা এমনভাবে বসে ছিল যেন তাদেরদ বেডরুম। এদের দেখতে দেখতে বিকেলটা ভালই কাটল।

এর মাঝে এক মেয়ে ক্যামেরাবন্দী হওয়ার আগে একটু মুখ পালিশ করছিল। আমার চোখে চোখ পরতেই কেল্লা ফতে, লজ্জায় একদম লাল হয়ে সেই যে গুল্মের আড়াল হল তো হলই। যাক লজ্জা তাইলে আছে কারও কারও। একটু পর আরেকটা সাধাসিধা মেয়ে নজরে এল। এর ছোটবোন (একদম পিচ্চি) ওড়না হারিয়েছে। সেই সাধাসিধা মেয়েটাকে সত্যিই অসাধারণ লাগল। খানিকটা সময় বিভিন্নভাবে ওর কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করলাম। এদিকে ৫টা বাজতেই বাঁশি বাজানো শুরু হয়ে গেছে। আমি আর রাতুল চললাম মদিনা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এর দিকে।

বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল।।

কোন কারকে কোন বিভক্তি?

0

কি আশায় বাঁধি খেলাঘর

আজকের দিনটা অন্যদিনের মত, নাকি অন্যরকম? জানি না। এত অলস সময় কাটাবো, আর তা যে এতটা অসহনীয় হবে তা বোধহয় কখনো ভাবিনি। আসলে গত কয়েক বছরে যে সিদ্ধান্ত-গুলো নিয়েছি তার প্রায় সবগুলোই ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই মাঝে মাঝে খুব হতাশ লাগে। অন্তত গত কয়েকদিন যাবত বসে বসে জীবনের সব পরিশ্রম বৃথা মনে হচ্ছে। জীবনটা যে এত অসহনীয় হয়ে উঠবে, কল্পনাতেও আসে নি। তবু আশায় বুক বাঁধতে হয়। জীবনে যাই ঘটুক, হাল আমি ছাড়ছি না। অতীতে যা হয়েছে, ভাল হয়েছ আবার খারাপও হয়েছে। না সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে——-

0

কালের রাখাল

আজ কয়েক মাস পর আবার লিখতে বসলাম। মাঝে ঘটে গেছে অনেক ঘটনা। খুলনা ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমিয়েছি। এই প্রথম মেসে থাকছি। মেস জীবনের নানা নিয়ম-কানুন আর হরেক রকম মানুষের সাথে পরিচয় ঘটছে প্রতিনিয়ত। জীবনটা কত বড় আর কত কি যে দেখার বাকি আছে, অনুধাবন করছি প্রতিটি ক্ষণে।

আপাতত বেকার ও অলস সময় পার করছি। গত ৩১ তারিখ আমার ৩ মাসের জব লাইফের ইতি টেনেছি। এই অল্প সময়ের মাঝে জীবনটাকে অন্যভাবে দেখতে শিখেছি। অনেক হাসপাতালে ঘোরাঘুরির কারণে এদেশের চিকিৎসা সেবা সম্পর্কে একটা ধারণা হয়ে গেছে। নানান কিসিমের মানুষের সাথে পরিচয় হল, দেখলাম ঢাকায় বসবাসকারী মানুষের সাথে তাদের কতটা মিল আর কতটা অমিল। ভাবতেই অবাক লাগে, এই ছোট্ট দেশে কত রকমের মানুষ যে আছে।

ভেবেছিলাম অনেক কিছু লেখার আছে। কিন্তু কি লিখব! অবশেষে-

There are many slips between cups and lips.