অভিশপ্ত ডিসেম্বর ২০১৩

গত কয়েকদিন নতুন এক বাস্তবতার মাঝে কাটালাম। গত ১৭ তারিখে নতুন জবে জয়েন করার কথা ছিল। কিন্তু ১৬ তারিখ সকালে মা ফোন করে বলল, চাকরি-বাকরি করার দরকার নেই, তাড়াতাড়ি বগুড়া চলে যেতে। বগুড়া ডায়াবেটিক হাসপাতালে আমার বাবা ভর্তি। চলে গেলাম সেখানে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বলে রক্ষা। নইলে হয়তো অবরোধের কারণে যাওয়াই হতো না। সকালে রওনা দিয়ে পৌঁছলাম রাত ১০ টার দিকে। রাতটা ভালই গেল। পরদিন ডাক্তার জানাল, রক্ত লাগবে। আমার আর বাবুর রক্তের গ্রুপ একই। বাঁচা গেল। সারাদিন ছোটাছুটির পর রাতে রক্ত দেয়ার কাজ শেষ হল। সেদিন বুঝলাম আমার প্রতি বাবুর কতটা টান যা হয়তো প্রত্যেক ছেলের প্রতি বাবাদের থাকে। পরদিন পায়ের ব্যান্ডেজ খোলার পর দেখলাম বাম পায়ের কনিষ্ঠ আংগুল কেটে ফেলা হয়েছে। এতটা আঘাত আগে কখনো পেয়েছি বলে মনে পড়ে না। বুঝতে পারলাম, আমাদের প্রতিটি অঙ্গ আমাদের কতটা আপন। সারাক্ষণ কাছাকাছি থাকলাম। মাঝে একদিন পলাশ এসে দেখে গেল। অফিসে ফোন করে জয়েনিং পিছিয়ে ২২ তারিখ করলাম। আসতে হবে এক দিন আগে। কারন অবরোধ। মায়ের সাথে দেখা পর্যন্ত করতে পারিনি। কেন জানি দেশের প্রতি আর মমত্ববোধ কাজ করে না।

Advertisements