0

আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ

গতকাল আইটি হেড স্যার ডেকে বললেন, আপনি কাল থেকে হেড অফিসে কয়েকদিন যান, সবকিছু দেখে আসেন। আজ সকালে আর্জেন্টিনা-প্যারাগুয়ে কোপা আমেরিকা সেমিফাইনাল। তাই আমিও বগল বাজাতে বাজাতে রাতেই চলে আসলাম। রাতে ঘুমাতে ঘুমাতে অনেক রাত হয়ে গেল। কিন্তু সকালে খেলা শুরু হওয়ার আগেই ঘুম শেষ। উঠে খেলা দেখা শুরু করলাম। মিনিট তিরিশেক হয়েছে, ২-০ তে এগিয়ে আছি, নেটের লাইন চলে গেল। গেল তো গেলই।

যাই হোক রেডি হয়ে অফিসের পথে রওনা হলাম। প্রথম উদ্দেশ্য থানা রোডের সামনে থেকে বাসে ওঠা। রাস্তা পেরিয়ে যেতেই দেখলাম, একটা বাস আসছে। মোটামুটি ফাঁকাই। হাত উচু করলাম। সাথে সাথে রং ওয়েতে আসা একটা ট্রাক সজোরে আমার বাদিকে ধাক্কা দিল। আমি কিছুক্ষণ উড়ে গিয়ে, তারপর কিছুদূর রাস্তার সাথে ঘষতে ঘষতে অবশেষে থামলাম। আমার মাথায় কিছুই আসছে না, যেন এক কল্পনার জগত। তারপর উঠে দাঁড়ালাম। না কোথাও তেমন ব্যথা নেই, সাদা শার্ট কোথাও লাল হয়ে যায় নি। সঠিকভাবেই দাঁড়িয়ে আছি। ট্রাকের দিকে তাকালাম, ড্রাইভার আর হেল্পার হতবম্ভ হয়ে গেছে। ওদের কিছু বলার নেই, রং ওয়েতে আসছিল। বাসটি তখনো থেমে আছে। আমি আস্তে আস্তে বাসে গিয়ে উঠলাম। কন্টাক্টর মনে করিয়ে দিল, বড় বাঁচা বেঁচে গেছেন। তখনো আমি ঘোরের মাঝে আছি। একটু পর সিট পেলাম। কন্টাক্টর স্টুডেন্ট মনে করে হাফ ভাড়া নিল।

হাতের তালুটা ছিলে গেছে। বাম হাতে ব্যথা। আমি চলছি হেড অফিসে। কি বিচিত্র হয়ে গেছি। কি হয়েছে? মারা তো আর যাই নি!

তুমি বিনে আকুল পরাণ,

থাকতে  চায় না ঘরে তে।।