মুদ্রার উল্টো পিঠ

শুক্রবার ছিল অফিসের পিকনিক। যমুনা নদীর তীরে। গাছপালা দিয়ে ঘেরা সুন্দর পরিবেশ। সময়টা শীতকাল না হয়ে গরম বা বর্ষা হলে আরো ভাল হত। কচি সবুজ রঙে চারিদিক ছেয়ে যেত। তারপরও পড়ন্ত বিকেলের যমুনা তীর সবসময়ই মোহনীয়। দারুন উপভোগ করলাম প্রতিটা ক্ষণ। সকালে ফুটবল খেলে আর সন্ধ্যায় গানের সাথে নেচে সমস্ত শরীরে ব্যথা নিয়ে ফিরলাম বাসায়।

পরদিন সকালে অফিসে আসলাম। ১০ টায় মা ফোন করে জানাল, বিশাল দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। ঠাকুরমা সকালে বাথরুমে যাওয়ার পথে পড়ে গেছে। এখন আর কথা বলছেন না। শরীরের ডান অংশ অবশ হয়ে গেছে। বিকেলে ছুটলাম বাড়ির পথে।

বাসায় পৌঁছলাম রাত দশটার দিকে। ঠাকুরমা শিশুর মত শুয়ে আছে। রাসেল ভাই এসে বসে আছে। তার সাথে পরামর্শ করে ঠিক করলাম পরদিন সকালে বগুড়া নিয়ে যাব।

সকালে ঘুম ভেঙ্গে বারান্দায় আসতেই চোখ পড়ল চেয়ারেব উপর সাজানো ঠাকুরমার পান, জর্দার কৌটা। মনটা কেমন যেন করে উঠল। এই তো দুদিন আগেই ফোনে কত কথা বললাম। আমাকে বাড়ি আসার জন্য কতবার বললেন। আমি বললাম আর ১০-১৫ দিন।

দুপুরের দিকে ঠাকুরমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। সব টেস্ট করে ডাক্তার জানালেন, ব্রেইন স্ট্রোক করেছে। যার কারণে এক হাত-পা অবশ হয়ে গেছে। সাথে কথাও কইতে পারছেন না। অনেক ঔষধ লিখে দিলেন। সবাই বলছিল, কবিরাজের কথা। আমিই জোর করে ডাক্তারের কাছে এনেছি। বারবার শুধু মনে হচ্ছিল, ভুল কিছু হল না তো?

পরদিন থেকে আত্মীয় আসা শুরু করল। ঠাকুরমা সামান্য উন্নতি করেছে। পুরোপুরি ভাল হবে কিনা জানি না। তবে আশা তো অনেক।

তিনদিন বাসায় কাটিয়ে কাল রাতে রওনা দিয়ে আজ অফিস করছি।

Advertisements