নারিকেল পাতার ঘড়ি

আমাদের গ্রামের বাড়িতে বেশ কিছু নারিকেল গাছ আছে । আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। একবার প্রচন্ড এক তুফানে আমাদের গোয়াল ঘরের চালা উড়ে গিয়ে আটকালো বাড়ির মাঝে এক নারিকেল গাছের মাথায়।

মাঝে মাঝে নারিকেল গাছের পাতা কাটা হত। সেদিন যেন উৎসব এর আমেজ এসে যেত বাড়িতে। সবাই মিলে কাজে লেগে যেত। কেউ পাতাগুলো কান্ড থেকে আলাদা করছে, কেউ কান্ডটা কাটছে ছোট করে, আবার কেউ সেগুলো চিকন শলাকা তৈরী করছে। সেগুলো দিয়ে তৈরী হত ঝাড়ু।

আর আমরা তৈরী করতাম নারকেল পাতার বাঁশি, হাতঘড়ি ও চশমা। বাঁশিগুলো হতো চোঙ্গার মত। মেয়েরা কলার পাতা চিকন করে ছিঁড়ে তৈরী করত চুল। আমের পুরানো কোয়া দিয়েও সুন্দর বাঁশি তৈর করা যেত।

Advertisements

সঙ্কটাপন্ন স্বপ্ন

এক সময় একটা কথা শুনেছিলাম। কার কাছে শুনেছিলাম মনে নেই।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের স্বপ্নগুলো মরে যেতে থাকে।

জানিনা কথাটা কতটুকু ঠিক বা বেঠিক।

বইপড়ায় আলসেমি

একটা বদ অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে। একটা বই শেষ না করেই আরেকটা বই শুরু করছি। এভাবে প্রায় ৭-৮ টা বই জমে গেছে। এবার শেষ করতেই হবে। তাই একটা একটা করে আগাচ্ছি।

প্রথমে শুরু করলাম আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা চিলেকোঠার সেপাই দিয়ে। বইটির ৭০ ভাগ পড়ে রেখেছিলাম। ৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান এর উপর লেখা। একই সাথে রাজধানী ও গ্রামের আবহ উঠে এসেছে স্বমহিমায়। আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার পুরো উপন্যাসকে করেছে জীবন্ত।

চিলেকোঠার সেপাই শেষ করে শুরু করলাম চেতন ভগতের ওয়ান ইন্ডিয়ান গার্ল। অন্যরকম কাহিনী। সমাজ ও পরিবারের কাছে লুকিয়ে ভালবাসার সন্ধান করে ফেরা এক মেয়ের গল্প।

তারপর শুরু করলাম আফগান আমেরিকান লেখন খালেদ হোসেনীর লেখা দ্যা কাইট রানার। ৫১ শতাংশ পড়া ছিল।আমার কাছে নতুন এক জগত। এর আগে আফগানিস্তান নিয়ে লেখা পড়া হয় নি। তাই একটু বেশি আগ্রহ কাজ করছিল। অসাধারণ পটভূমিতে লেখা উপন্যাসে ফুটে উঠেছে আফগানে ক্ষমতার পালাবদল আর তার সাথে মানুষের জীবনের রংবদল। আজ সাময়িকভাবে যা ভাল মনে হয়, তা আগামীতে যে কি বয়ে নিয়ে আসবে তার কোন ঠিক নেই। অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় শেষ দিলাম।

আরো বেশ কয়েকটি তালিকায় আছে।

১। পঞ্চতন্ত্র – সৈয়দ মুজতবা আলী

২। দিবারাত্রির কাব্য – মানিক বন্দোপাধ্যায়

৩। হ্যারি পটার এন্ড দ্যা সর্সারার্স স্টোন – জে কে রাউলিং

৪। দ্যা উইংস অফ ফায়ার – এপিজে আবুল কালাম আজাদ

৫। ছোট গল্পসমগ্র – তলস্তয়