0

সঙ্কটাপন্ন স্বপ্ন

এক সময় একটা কথা শুনেছিলাম। কার কাছে শুনেছিলাম মনে নেই।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের স্বপ্নগুলো মরে যেতে থাকে।

জানিনা কথাটা কতটুকু ঠিক বা বেঠিক।

0

বইপড়ায় আলসেমি

একটা বদ অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে। একটা বই শেষ না করেই আরেকটা বই শুরু করছি। এভাবে প্রায় ৭-৮ টা বই জমে গেছে। এবার শেষ করতেই হবে। তাই একটা একটা করে আগাচ্ছি।

প্রথমে শুরু করলাম আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখা চিলেকোঠার সেপাই দিয়ে। বইটির ৭০ ভাগ পড়ে রেখেছিলাম। ৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান এর উপর লেখা। একই সাথে রাজধানী ও গ্রামের আবহ উঠে এসেছে স্বমহিমায়। আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার পুরো উপন্যাসকে করেছে জীবন্ত।

চিলেকোঠার সেপাই শেষ করে শুরু করলাম চেতন ভগতের ওয়ান ইন্ডিয়ান গার্ল। অন্যরকম কাহিনী। সমাজ ও পরিবারের কাছে লুকিয়ে ভালবাসার সন্ধান করে ফেরা এক মেয়ের গল্প।

তারপর শুরু করলাম আফগান আমেরিকান লেখন খালেদ হোসেনীর লেখা দ্যা কাইট রানার। ৫১ শতাংশ পড়া ছিল।আমার কাছে নতুন এক জগত। এর আগে আফগানিস্তান নিয়ে লেখা পড়া হয় নি। তাই একটু বেশি আগ্রহ কাজ করছিল। অসাধারণ পটভূমিতে লেখা উপন্যাসে ফুটে উঠেছে আফগানে ক্ষমতার পালাবদল আর তার সাথে মানুষের জীবনের রংবদল। আজ সাময়িকভাবে যা ভাল মনে হয়, তা আগামীতে যে কি বয়ে নিয়ে আসবে তার কোন ঠিক নেই। অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় শেষ দিলাম।

আরো বেশ কয়েকটি তালিকায় আছে।

১। পঞ্চতন্ত্র – সৈয়দ মুজতবা আলী

২। দিবারাত্রির কাব্য – মানিক বন্দোপাধ্যায়

৩। হ্যারি পটার এন্ড দ্যা সর্সারার্স স্টোন – জে কে রাউলিং

৪। দ্যা উইংস অফ ফায়ার – এপিজে আবুল কালাম আজাদ

৫। ছোট গল্পসমগ্র – তলস্তয়

0

গ্রামের দিনগুলি

তখন আমি গ্রামে ছিলাম। বয়স কত মনে নেই। ৩-৪ হতে পারে। আমাদের বাড়িতে কাজ করার জন্য রবিন নামে একজনকে মাসির বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়। তার সাথে একদিন দহপাড়া মাছ ধরতে যাই। গিয়ে দেখি অনেক লোক মাছ ধরছে। অনেকটা বিলের মত। আমার হাতে একটা বড় মাছ এসেছিল। ধরতে পারি নি। বাড়ি থেকে বেশি দূরে নয়। তারপরও পরে মনে হয় আর যাওয়া হয়নি।

স্কুলের দিকে যে রাস্তাটা গেছে আমাদের বাড়ি থেকে, মাঝে একটা ছোট কাল্ভার্ট পড়ে। আমরা বলতাম পুল। পুলের নিচে ডোবার মত কিছুটা জল ছিল। একদিন কাকা, স্বপন, মনোরঞ্জনের সাথে গেলাম সেখানে স্নান করতে। আমার মা জানলে রাগ করবে তাই ওরা আমাকে প্রথমে নিতে চায় নি। পরে সল্টেজ বিস্কুট ঘুষ দিতে হয়েছিল। সারা দুপুর জলে ঝাপাঝাপি করে রোদে গা-মাথা শুকিয়ে নিশ্চিন্ত মনে যখন বাড়ি ফিরলাম, আমার লাল চোখ দেখে মা বুঝে গেলেন কি করেছি সারাদিন। আবার কলের পাড়ে নিয়ে গেলেন গা ধুতে।

একদিন সকালে আমি আর মনোরঞ্জন সেই স্কুলে যাওয়ার রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম। সেই পুলের কাছে এসে থামলাম। দুজনে ফন্দি করলাম, রড় হয়ে একটা ট্রাক কিনব । আমি হবো ড্রাইভার, আর ও হেল্পার। অথবা একটা টেম্পু কিনব।

মাঝে মাঝে আমরা ফুরকুনি (বনভোজন) করতাম ছোটরা মিলে। আমাদের সমবয়সী ছিল চপলা। রান্নার দায়িত্ব ছিল তার। নামায় (ধানক্ষেতে) চুলা তৈরি করতাম। সবাই একটু করে চাল, ডাল, আলু, পত্তে, পিয়েজ, বেগুন, নুন, তেল নিয়ে আসত। হলুদের কথা মনে থাকত না। বেগুন ভাঁজি হত কালো। একবার নামায় কাঁকড়া পেয়েছিলাম। সেটাই ভেঁজে খাওয়া হল। বড়দের সাথে একবার পুষনা করেছিলাম। শীতের ভিতর। মাইক ভাড়া করে আনা হয়েছিল।

গরু দিয়ে হালের পর বড় বড় মাটির ঢেলা হত। সেগুলোকে আবার ঢেল ভাঙ্গা দিয়ে ভাংতে হত। বাবু আমার জন্য একটা ছোট ঢেল ভাঙ্গা বানিয়ে দিয়েছিল। নিজের জিনিসের অনুভূতি অন্যরকম। স্যালাইনের ব্যাগ, পাইপ আর সিরিঞ্জ দিয়ে শ্যালো মেশিন বানাতাম আর স্বপ্ন দেখতাম আমার একটা ছোট মেশিন থাকবে।

কিছুদিন পর পেলাম ফুটবল। গ্রামে আমরা বলতাম বল খেলা। একটা খেলা ছিল ফাটাফাটি খেলা। বলে শট দিয়ে অন্যকে মারতে হবে। স্বপন ছিল সব থেকে পাকা। একদিন অনেক সাহস নিয়ে ওর সাথে ফাটাফাটি খেললাম।

আমাদের বাড়িতে টিভি আসার পর পুরো গ্রামের লোকজন শুক্রবারে জমা হত ছবি দেখার জন্য। আমি দুঃখের অংশ দেখতে পারতাম না। কর্তার কোলে করে ঘুরতাম। আমার আবদার রাখতে গিয়ে তার দেখা হত না। রাতে হত আলিফ লায়লা। অর্ধেক হতে ব্যাটারী শেষ হয়ে আসত। ধীরে ধীরে পর্দা ছোট হয়ে আসত। একদিন নাটকে গান হল, “আজ পাশা খেলব রে শ্যাম”। পরদিন কর্তা সারাদিন গাইলেন সে গান। আর একদিন নাটকে কে যেন কাঁদছিল। কর্তা ছুটে এলেন আমাদের ঘরে। খোঁজ নিলেন মা কাঁদছেন কি না। কতদিন আমি আর কাকারা গবেষণা করেছি টিভি বন্ধ হলে ছোট মানুষ গুলো কই যায়। নায়িকারা এত তাড়াতাড়ি অন্য শাড়ি পড়ে কিভাবে।

বাড়ির খুলিতেই শ্যালো মেশিন। সকালে দাঁতন খুজে দাঁত মেজে মেশিনের ড্রেনে মুখ ধুতাম। দুপুরে গা ধুতাম মেশিনের জলে। গা আঠালো হয়ে যেত। মা আবার নিয়ে যেতেন কলের পাড়ে।

0

লালবাগে সন্ধ্যা

শনিবার বেড়িয়েছিলাম লালবাগে যাওয়ার জন্য। শ্যামলীতে নিজের কাজ সেরে পুরাণ ঢাকায় গিয়ে বিরিয়ানি শেষ করতে করতে সাড়ে তিনটা। তারপরও কড়া রোদের ঝলকানি সবখানে। ভেতরে ঢুকে গাছের ছায়ায় বসে রইলাম। শেষ বিকেলে রোদের তেজ্ব কমে আসলে কিছু হাটাহাটি করলাম। লালবাগ কেল্লার ছবি তুললাম কিছু। বের হয়ে আসার আগ মুহূর্তে শুনলাম লাইট এন্ড সাউন্ড শো এর ঘোষনা। শুরু হবে ৭ টায়। আরো ১ ঘন্টা বাকি।

কেল্লা থেকে বের হয়ে মদিনাতে গেলাম। সেখানে ছানার সন্দেশ খেয়ে আবার কেল্লার সামনে দাঁড়ালাম। ৭ টার আগেই টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকলাম। বসার জন্য চেয়ারের আয়োজন রয়েছে। ৭ টায় শুরু হল লালবাগ কেল্লায় লাইট এন্ড সাউন্ড শো। আহামরি কিছু না। ১৬০০ সাল হতে কেল্লার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। লাইটিং আরো ভালো আশা করেছিলাম। তবে সাউন্ড কোয়ালিটি খুব ভাল লেগেছে। বিশেষ করে পিছন দিয়ে যখন ঘোড়া দৌড়ে যায়। বিনোদনহীন এ শহরে একটু অন্যরকম আয়োজন।

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা – পরী বিবির মাজার (বায়ে)

লালবাগ কেল্লা

লালবাগ কেল্লা

0

মুদ্রার উল্টো পিঠ

শুক্রবার ছিল অফিসের পিকনিক। যমুনা নদীর তীরে। গাছপালা দিয়ে ঘেরা সুন্দর পরিবেশ। সময়টা শীতকাল না হয়ে গরম বা বর্ষা হলে আরো ভাল হত। কচি সবুজ রঙে চারিদিক ছেয়ে যেত। তারপরও পড়ন্ত বিকেলের যমুনা তীর সবসময়ই মোহনীয়। দারুন উপভোগ করলাম প্রতিটা ক্ষণ। সকালে ফুটবল খেলে আর সন্ধ্যায় গানের সাথে নেচে সমস্ত শরীরে ব্যথা নিয়ে ফিরলাম বাসায়।

পরদিন সকালে অফিসে আসলাম। ১০ টায় মা ফোন করে জানাল, বিশাল দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। ঠাকুরমা সকালে বাথরুমে যাওয়ার পথে পড়ে গেছে। এখন আর কথা বলছেন না। শরীরের ডান অংশ অবশ হয়ে গেছে। বিকেলে ছুটলাম বাড়ির পথে।

বাসায় পৌঁছলাম রাত দশটার দিকে। ঠাকুরমা শিশুর মত শুয়ে আছে। রাসেল ভাই এসে বসে আছে। তার সাথে পরামর্শ করে ঠিক করলাম পরদিন সকালে বগুড়া নিয়ে যাব।

সকালে ঘুম ভেঙ্গে বারান্দায় আসতেই চোখ পড়ল চেয়ারেব উপর সাজানো ঠাকুরমার পান, জর্দার কৌটা। মনটা কেমন যেন করে উঠল। এই তো দুদিন আগেই ফোনে কত কথা বললাম। আমাকে বাড়ি আসার জন্য কতবার বললেন। আমি বললাম আর ১০-১৫ দিন।

দুপুরের দিকে ঠাকুরমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। সব টেস্ট করে ডাক্তার জানালেন, ব্রেইন স্ট্রোক করেছে। যার কারণে এক হাত-পা অবশ হয়ে গেছে। সাথে কথাও কইতে পারছেন না। অনেক ঔষধ লিখে দিলেন। সবাই বলছিল, কবিরাজের কথা। আমিই জোর করে ডাক্তারের কাছে এনেছি। বারবার শুধু মনে হচ্ছিল, ভুল কিছু হল না তো?

পরদিন থেকে আত্মীয় আসা শুরু করল। ঠাকুরমা সামান্য উন্নতি করেছে। পুরোপুরি ভাল হবে কিনা জানি না। তবে আশা তো অনেক।

তিনদিন বাসায় কাটিয়ে কাল রাতে রওনা দিয়ে আজ অফিস করছি।

0

দিন বদলের গান

img_20161011_120500743

আমার এক মাসতুতো ভাই দর্শন। আমার কাছাকাছি বয়সের। ওর সাথে খুব ছোটবেলায় আমার মিল ছিল। আমরা তখন গ্রামে থাকতাম। ওরা বেড়াতে এসেছিল আমাদের বাড়িতে। আমার কালো এক জোড়া বুট জুতা ছিল। সেই জুতো জোড়া বদল করেছিলাম দর্শনের জুতার সাথে।

আরেকবার দেখা হয়েছিল বোধহয় বড় মাসির বাড়িতে। ক্রিকেট খেলেছিলাম একসাথে। এর বেশি কিছু মনে নেই।

আর একবার ওর ছোট ভাই এর অন্নপ্রাশনে।

এরপর ওরা ভারত চলে যায়। আর দেখা হয় নি। ওর ভাই-বোনদের সাথে দেখা হয়েছে, কিন্তু ওর সাথে হয় নি।

আজ প্রায় ২০ বছর পর ফেসবুকে খুঁজে পেলাম। রিকুয়েস্ট একসেপ্ট হল। খুঁজে খুঁজে অনেক ছবি দেখলাম। চেহারা সেই আগের মতই আছে। ও বিয়ে করেছে। বাবা হয়েছে। চাকুরী করছে। অন্যরকম অনুভূতি।

এভাবেই আজো অনেক কেই খুঁজে চলেছি। অনেকের সন্ধান পেয়েছি, অনেকের সন্ধান পাব আর কারো হয়তো পাব না।

0

এবার পুজোয়

এবারের পুজোটা বেশ ভাল কেটেছে। দুইদিন সরকারী ছুটির সাথে দুইদিন ক্যাজুয়াল লিভ। তারপরও বাসায় যেতে যেতে সপ্তমীর রাত। অষ্টমীর সকালবেলা ঘুমিয়ে পার করলাম।

বিকেলে বের হলাম মিঠু, পলাশ আর সুজন দাদাদের সাথে। উদ্দেশ্য পুরানো বান্ধবীদের বাড়ি। আমার সাথে ক্লাস ফাইভের পর কোন যোগাযোগ নেই। দুই বান্ধবীর বিয়ে হয়েছে। তাদের সন্তানদের জন্য কিনলাম বল আর টুপি। আমাকে অবাক করে দিয়ে দুই জনেই আমাকে চিনে ফেলল। আমি অবশ্য কাউকেই চিনতে পারি নি। বিশাল খানা দানা হল। অনেক ছবি তোলা হল। পরদিনও বিশাল ঘোরা হল।

20161013_103254-collage

দশমীর দিন সকালে গেলাম গ্রামের বাড়ী। এক বছর পর এলাম। গতবার পুজোর না আসায় সবাই খুব মন খারাপ করেছিল। এবারের যাওয়াটা অন্যরকম। সবাইকে বেশ সুখী মনে হল। আমাদের বাড়িটা ফাঁকা । শুধু ঠাকুরমা। ঘড়ের দরজায় শোলার ফুল বেঁধে দিলাম। পুরো বাড়ী শ্যাওলা পড়ে গেছে। বড় কাকার বাড়ি গিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকলাম। কর্তা মলা মুড়ি দিল। একদম বাড়ির ভাঁজা মুড়ি। অন্যরকম স্বাদ। দুপুরে সেখানেই ভাত খেলাম। কর্তা তার ঢাকা বেড়ানোর গল্প বললেন।

আগে দশমীর দিন আমরা অনেক মুড়ি, মুড়কি, মলা, নাড়ু বিতরণ করতাম। এবারো সে আশায় কেউ কেউ এসেছিল। কিছুই দেয়া হয়নি।

বিকেলে ঠাকুরমাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম। দিনগুলো একদম আগের মত নেই।