লালবাগে সন্ধ্যা

শনিবার বেড়িয়েছিলাম লালবাগে যাওয়ার জন্য। শ্যামলীতে নিজের কাজ সেরে পুরাণ ঢাকায় গিয়ে বিরিয়ানি শেষ করতে করতে সাড়ে তিনটা। তারপরও কড়া রোদের ঝলকানি সবখানে। ভেতরে ঢুকে গাছের ছায়ায় বসে রইলাম। শেষ বিকেলে রোদের তেজ্ব কমে আসলে কিছু হাটাহাটি করলাম। লালবাগ কেল্লার ছবি তুললাম কিছু। বের হয়ে আসার আগ মুহূর্তে শুনলাম লাইট এন্ড সাউন্ড শো এর ঘোষনা। শুরু হবে ৭ টায়। আরো ১ ঘন্টা বাকি।

কেল্লা থেকে বের হয়ে মদিনাতে গেলাম। সেখানে ছানার সন্দেশ খেয়ে আবার কেল্লার সামনে দাঁড়ালাম। ৭ টার আগেই টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকলাম। বসার জন্য চেয়ারের আয়োজন রয়েছে। ৭ টায় শুরু হল লালবাগ কেল্লায় লাইট এন্ড সাউন্ড শো। আহামরি কিছু না। ১৬০০ সাল হতে কেল্লার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। লাইটিং আরো ভালো আশা করেছিলাম। তবে সাউন্ড কোয়ালিটি খুব ভাল লেগেছে। বিশেষ করে পিছন দিয়ে যখন ঘোড়া দৌড়ে যায়। বিনোদনহীন এ শহরে একটু অন্যরকম আয়োজন।

লালবাগ কেল্লা
লালবাগ কেল্লা
লালবাগ কেল্লা
লালবাগ কেল্লা – পরী বিবির মাজার (বায়ে)
লালবাগ কেল্লা
লালবাগ কেল্লা

মুদ্রার উল্টো পিঠ

শুক্রবার ছিল অফিসের পিকনিক। যমুনা নদীর তীরে। গাছপালা দিয়ে ঘেরা সুন্দর পরিবেশ। সময়টা শীতকাল না হয়ে গরম বা বর্ষা হলে আরো ভাল হত। কচি সবুজ রঙে চারিদিক ছেয়ে যেত। তারপরও পড়ন্ত বিকেলের যমুনা তীর সবসময়ই মোহনীয়। দারুন উপভোগ করলাম প্রতিটা ক্ষণ। সকালে ফুটবল খেলে আর সন্ধ্যায় গানের সাথে নেচে সমস্ত শরীরে ব্যথা নিয়ে ফিরলাম বাসায়।

পরদিন সকালে অফিসে আসলাম। ১০ টায় মা ফোন করে জানাল, বিশাল দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। ঠাকুরমা সকালে বাথরুমে যাওয়ার পথে পড়ে গেছে। এখন আর কথা বলছেন না। শরীরের ডান অংশ অবশ হয়ে গেছে। বিকেলে ছুটলাম বাড়ির পথে।

বাসায় পৌঁছলাম রাত দশটার দিকে। ঠাকুরমা শিশুর মত শুয়ে আছে। রাসেল ভাই এসে বসে আছে। তার সাথে পরামর্শ করে ঠিক করলাম পরদিন সকালে বগুড়া নিয়ে যাব।

সকালে ঘুম ভেঙ্গে বারান্দায় আসতেই চোখ পড়ল চেয়ারেব উপর সাজানো ঠাকুরমার পান, জর্দার কৌটা। মনটা কেমন যেন করে উঠল। এই তো দুদিন আগেই ফোনে কত কথা বললাম। আমাকে বাড়ি আসার জন্য কতবার বললেন। আমি বললাম আর ১০-১৫ দিন।

দুপুরের দিকে ঠাকুরমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। সব টেস্ট করে ডাক্তার জানালেন, ব্রেইন স্ট্রোক করেছে। যার কারণে এক হাত-পা অবশ হয়ে গেছে। সাথে কথাও কইতে পারছেন না। অনেক ঔষধ লিখে দিলেন। সবাই বলছিল, কবিরাজের কথা। আমিই জোর করে ডাক্তারের কাছে এনেছি। বারবার শুধু মনে হচ্ছিল, ভুল কিছু হল না তো?

পরদিন থেকে আত্মীয় আসা শুরু করল। ঠাকুরমা সামান্য উন্নতি করেছে। পুরোপুরি ভাল হবে কিনা জানি না। তবে আশা তো অনেক।

তিনদিন বাসায় কাটিয়ে কাল রাতে রওনা দিয়ে আজ অফিস করছি।

এবার পুজোয়

এবারের পুজোটা বেশ ভাল কেটেছে। দুইদিন সরকারী ছুটির সাথে দুইদিন ক্যাজুয়াল লিভ। তারপরও বাসায় যেতে যেতে সপ্তমীর রাত। অষ্টমীর সকালবেলা ঘুমিয়ে পার করলাম।

বিকেলে বের হলাম মিঠু, পলাশ আর সুজন দাদাদের সাথে। উদ্দেশ্য পুরানো বান্ধবীদের বাড়ি। আমার সাথে ক্লাস ফাইভের পর কোন যোগাযোগ নেই। দুই বান্ধবীর বিয়ে হয়েছে। তাদের সন্তানদের জন্য কিনলাম বল আর টুপি। আমাকে অবাক করে দিয়ে দুই জনেই আমাকে চিনে ফেলল। আমি অবশ্য কাউকেই চিনতে পারি নি। বিশাল খানা দানা হল। অনেক ছবি তোলা হল। পরদিনও বিশাল ঘোরা হল।

20161013_103254-collage

দশমীর দিন সকালে গেলাম গ্রামের বাড়ী। এক বছর পর এলাম। গতবার পুজোর না আসায় সবাই খুব মন খারাপ করেছিল। এবারের যাওয়াটা অন্যরকম। সবাইকে বেশ সুখী মনে হল। আমাদের বাড়িটা ফাঁকা । শুধু ঠাকুরমা। ঘড়ের দরজায় শোলার ফুল বেঁধে দিলাম। পুরো বাড়ী শ্যাওলা পড়ে গেছে। বড় কাকার বাড়ি গিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকলাম। কর্তা মলা মুড়ি দিল। একদম বাড়ির ভাঁজা মুড়ি। অন্যরকম স্বাদ। দুপুরে সেখানেই ভাত খেলাম। কর্তা তার ঢাকা বেড়ানোর গল্প বললেন।

আগে দশমীর দিন আমরা অনেক মুড়ি, মুড়কি, মলা, নাড়ু বিতরণ করতাম। এবারো সে আশায় কেউ কেউ এসেছিল। কিছুই দেয়া হয়নি।

বিকেলে ঠাকুরমাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম। দিনগুলো একদম আগের মত নেই।

ছবি

নয়ন ভরা জল

আজ মনটা হঠাত বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠল।
আমি পড়াশোনা করেছি মফস্বলের স্কুলে। তাই আমার বন্ধুমহল ছিল বিচিত্র।
সেভেনে থাকতে নয়ন নামের এক জনের সাথে বেশ খাতির হয়। সাইজে সে আমার দেড় গুন। আমাকে কেন পছন্দ করত জানি না। তার সব গোপন কথা আমার কাছে বলত।
ঠিকমত স্কুলে আসা বা পড়াশোনা কোনোটাই তার হয়ে ওঠেনি। কোনমতে এসএসসি পাস করে দোকান করত। আর স্কুলের পর থেকেই আমি বাইরে। তাই যোগাযোগ  ছিল না বললেই চলে।
কিছুদিন আগে সে আমাকে ফেসবুকে রিকুয়েস্ট পাঠায়। আমি এড করি। ইনবক্সে জানায় সে জীবিকার তাগিদে লিবিয়া গেছে। ছবি পাঠায়। সেখানে তার ভাল লাগে না। আমাদের কথা অনেক মনে পড়ে।
তারপর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। আজ সে ফেসবুক মেসেঞ্জার এ কল দিয়েছে। অফিসে থাকায় ধরতে পারিনি।একটু পর তার ভয়েস মেসেজ।  সেই চিরচেনা কণ্ঠ। শুধু একরাশ বেদনায় ভরা।

চোঁখের আলোয় দেখেছিলেম

দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় অদ্ভুত সুন্দর এক জোড়া চোঁখ দেখেছিলাম। আজ আবার আবার দেখলাম একটি চোখের প্রতিচ্ছবি।

ভালবাসা মানে নীল প্রজাপতি

গতকাল থেকে সারাদেশে ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসএপ সহ আরো কয়েকটি অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যম বন্ধ করা হয়েছে। মজার বিষয় হল, প্রক্সি ব্রাউজার ব্যবহার আমার মত অনেকেই এই সেবাগুলো উপভোগ করেই যাচ্ছি। সুতরাং যে কারণে এগুলো বন্ধ করা হয়েছে তা কতটুকু ফলপ্রসূ হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। যাক এসব নিয়ে আমার খুব বেশি ভাবনা নাই।

এবারের পূজো মোটামুটি ভালই কেটেছে। ভ্যানে করে সব অচেনা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। যে জায়গায় প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়, সেখানে প্রথমবারের মত গেলাম। অসাধারণ লেগেছে। উপরি হিসেবে, স্কুলের বন্ধু কাওসারের সাথে দেখা হল। হেলথ এ চাকরি করছে। ওর ছেলেকে কোলে করে নিয়ে এসেছে প্রতিমা বিসর্জন দেখাতে।

তুমি আসবে বলে

আজ মহাঅষ্টমী। এতক্ষণে নবমী শুরু হয়েছে কিনা জানিনা। একটু পর বাড়ির পথে রওনা হব।

সকালে পলাশ ফোন করেছিল। কবে আসব, জানতে চাইল।

পূজার আবহ অনেকটাই বদলে গেছে। গত কয়েক বছর ঈদ-পূজা কাছাকাছি হওয়ায় সবাই মিলে মজা হত। এবার আর তা হচ্ছে না।

দেখি এবার কি হয়।