0

The journey begins

যাত্রার দিন তারিখ আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ৯ ডিসেম্বর সন্ধায় লঞ্চে করে রওনা দেই সুন্দরবনের উদ্দেশে। আমাদের প্রথম গন্তব্য হিরণ পয়েন্ট। রাতে খাওয়া-দাওয়া করে করে তারাতারি করে ঘুমিয়ে পড়লাম। লঞ্চ এগিয়ে চলল নদীর বুক চিরে।সকালে বন্ধুদের ডাকাডাকিতে ঘুম থেকে উঠে পড়লাম। বাইরে এসে চোখ খুলতেই অবাক হয়ে গেলাম। আমি দাড়িয়ে আছি কুশিয়ারা নদীর উপর, সুন্দরবনের প্রবেশমুখে। নদীর দুইপাশের বন রেখে এগিয়ে চলল লঞ্চ। সকাল দশটার দিকে লঞ্চ হিরণ পয়েন্টের কাছাকাছি মাঝনদীতে নোংগর করল। এখান থেকে ট্রলারে করে রওনা দিলাম হিরণ পয়েন্টে। দুধারের রূপ দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। জোয়ার চলছিল, স্রোতের সাথে ট্রলার উঠা-নামা করছিল, মনে অসাধারণ শিহরণ অনুভব করছিলাম।  যেতে মিনিট দশেক এর মত সময় লাগল। হিরণ পয়েন্টে নামার পর দেখলাম নীলকমল অভয়ারণ্য।

সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম একটি উচু টাওয়ার। উঠে পরলাম তাতে। দু’চোখের সামনে শুধুই সবুজ। নেমে সরু রাস্তা ধরে ঢুকে পরলাম বনের ভিতর। রাস্তার পাশে নিচু জলার মত জায়গায় দেখলাম অসংখ্য লাল কাকড়া। ধরতে গেলেই ঢুকে পরে পাশের ছোট গরতে। আশেপাশে অসংখ্য হরিনের পায়ের ছাপ। বেশ কিছু পথ হাটার পর একটি ছোট সেতু পেলাম। ঘোষণা করা হল, হিরণ পয়েন্ট অভিযান এতটুকুই! চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ, কিন্তু মন চাইছিল সামনে এগিয়ে যেতে। না হল না। ঘুরে-ফিরে দেখলাম আশ-পাশ। প্রথম ভ্রমণের আনন্দ সাথে করে ফিরে এলাম ট্রলারে নামার ডেকে।

This trip was back in 2010 when I was a 2nd year student in the University. I wrote this after the trip on my blog which I deleted eventually. Today somehow, I found this via my gmail. A glimpse of past always makes me nostalgic.

Anyway, Happy Diwali…

 

0

দাদা দিদির কথা ও তাম্বুলপুর

গত ২৪ জুন রাতে বড়মাসি মারা গেছেন। পরদিন সকালে মা ফোন করে জানাল। বড়ই ভেঙ্গে পড়েছেন।

বড়মাসিদের সাথে আমাদের বিশেষ করে আমার সম্পর্কটা অন্যরকম। কেননা আমার অনেকটা শৈশব কেটেছে মাসতুতো ভাই বোনদের সাথে।

১৯৯৬ সালে লতা ও ঊষা দিদির এস,এস,সি পরীক্ষা। বড় মেসো তখন রাজাবিরাট এর তহশিলদার। তিনি নিজের কাছে রেখে মেয়েদের পড়াতেন। তাদের পরীক্ষার সিট পড়ে মফঃস্বলে। সেখানে আমাদের জমি কেনা ছিল আর তাতে দুটো টিনের ঘর। তো সেখানেই তারা উঠলেন। আমাকেও গ্রামের বাড়ি থেকে পাঠানো হল।
তাদের পরীক্ষার সময়টা বসেই ছিলাম। তারপর হঠাৎ করেই একদিন কেজি স্কুলে নিয়ে ভর্তি করানো হল।

সেই থেকেই শুরু। দিদিরা পাস করল। কলেজে ভর্তি হল। শিল্পী দিদিও এসে কিছুদিন থাকল। শিখা দিদি ও উৎপল দাদা এল। তারা এস,এস,সি পাস করল। কলেজে ভর্তি হল।

মাঝে আমরা বাড়ি করলাম। তখন সবাই পাশের বাসায় ভাড়া থাকতাম।

সেই সূত্রেই মাসীদের বাড়িতে যাওয়া হত বেশী।

সবচেয়ে বেশী মনে পড়ে ঊষা দিদির বিয়ের কথা। তখন আমি বোধহয় থ্রি তে পড়ি। খুব আনন্দ হয়েছিল সেবার। আমার মায়েরা ৬ বোন, এক ভাই। তাই মাসতুতো আর মামাত ভাইবোন মিলে আমরা অনেক। সেবার বোধহয় বেশির ভাগ ভাইবোন এসেছিল।

আরেকবার গিয়েছিলাম স্বরসতী পূজার সময়। সেবারও অনেক মজা হয়েছিল। ওখানকার স্থানীয় ছেলেদের সাথে অনেক মিল হয়ে গিয়েছিল। সবাই মিলে ক্রিকেট খেলতাম।

শেষবার গেলাম প্রদীপ দাদার বিয়েতে। তখন ক্লাস এইটে পড়ি।

0

আপামণি লবণটা যেন কি

আগে এখনকার মত আয়োডিন লবনের প্রচলন ছিল না। গ্রামের অধিকাংশ মানুষই খোলা লবন ব্যাবহার করত। আমাদের গ্রামে ভ্যানে করে নিয়ে আসত লবন। ভ্যানের সামনে থাকত একটা মাইক। তাতে ঘোষণা দিত, “এই লবন বদল”। মানে হল, বিভিন্ন পুরানো জিনিসপত্রের পরিবর্তে লবন বদল করে নেয়া।

[তখন বিটিভিতে আয়োডিনযুক্ত লবনের অভাবে কি কি রোগ হয়, তা নিয়ে নানা অনুষ্ঠান হত। এর মাঝে একটি রোগ ছিল ঘ্যাগ। আমাদের পাশের বাড়িতে মনোরঞ্জনের ঠাকুরমা থাকত। তার ঘ্যাগ থাকায় অনেকে তাকে ঘ্যাগী বুড়ি বলে ডাকত। আবার গুরুজনেরা বলত বোতলে জল খেলেও এরকম ঘ্যাগ হয়। তাই আমরা ভয়ে আয়োডিনযুক্ত লবন খেতাম আর বোতলে জল খাওয়া থেকে বিরত ছিলাম।

তখন মোল্লা সল্টের খুব নাম ডাক।

“তেজ পাতা, চিনি,
বাইছা বাইছা কিনি,
কেনে প্রতিজন
মোল্লা লবণ।।”]

এরকম আরো ছিল। মাঝে মাঝে কটকটিওয়ালা আসত। এই কটকটি অবশ্য মহাস্থানগড়ের কটকটি নয়। তারা নিত লোহার জিনিসপত্র।

আইস্ক্রিমওয়ালা ছিল দুই রকমের। একদল ছিল কাঠের বাক্স নিয়ে ঘুরত সাইকেলের পিছনে। বাড়ির কাছাকাছি এসে সে কাঠের বাক্সের ঢাকনা খুলে জোরে আওয়াজ করে বন্ধ করত। তাতেই বাড়ির যত ছেলে-মেয়ে ছুটে আসত আলু বা ধান নিয়ে। টাকা দিয়ে বেচা-কেনা খুব একটা হত না। আর টাকা ছিলই বা কার কাছে! আর এক ধরনের আইস্ক্রিমওয়াল আসত ভ্যান নিয়ে ঘন্টা বাজাতে বাজাতে। তবে গ্রামের দিকে তাদের দেখা পাওয়া যেত না।

রান্নার হাঁড়িপাতিল নিয়ে আসত আরেক দল ফেরিওয়ালা। তাদের বিনিময় ছিল পুরানো কাপড়।

আর ছিল মেয়েদের বিভিন্ন সাজগোজের ফেরিওয়ালা। তাদের ছিল সুন্দর চারকোনা কাঠের বাক্স। সামনের দিকটা কাঁচের। তাতে সুন্দরভাবে সস্তা দুল, নোলক, গলার চেইন সাজানো থাকত। সবচেয়ে প্রচলিত ছিল তিব্বত স্নো আর শীতকালে পমেড।

ছবি
0

নয়ন ভরা জল

আজ মনটা হঠাত বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠল।
আমি পড়াশোনা করেছি মফস্বলের স্কুলে। তাই আমার বন্ধুমহল ছিল বিচিত্র।
সেভেনে থাকতে নয়ন নামের এক জনের সাথে বেশ খাতির হয়। সাইজে সে আমার দেড় গুন। আমাকে কেন পছন্দ করত জানি না। তার সব গোপন কথা আমার কাছে বলত।
ঠিকমত স্কুলে আসা বা পড়াশোনা কোনোটাই তার হয়ে ওঠেনি। কোনমতে এসএসসি পাস করে দোকান করত। আর স্কুলের পর থেকেই আমি বাইরে। তাই যোগাযোগ  ছিল না বললেই চলে।
কিছুদিন আগে সে আমাকে ফেসবুকে রিকুয়েস্ট পাঠায়। আমি এড করি। ইনবক্সে জানায় সে জীবিকার তাগিদে লিবিয়া গেছে। ছবি পাঠায়। সেখানে তার ভাল লাগে না। আমাদের কথা অনেক মনে পড়ে।
তারপর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। আজ সে ফেসবুক মেসেঞ্জার এ কল দিয়েছে। অফিসে থাকায় ধরতে পারিনি।একটু পর তার ভয়েস মেসেজ।  সেই চিরচেনা কণ্ঠ। শুধু একরাশ বেদনায় ভরা।